ফুলবাড়ি উন্মুক্ত কয়লা খনি ইস্যুতে যারা আমাকে ভারতের দালাল বলেন, তারা দুইটা প্রশ্নের উত্তর দিয়েন।
১। ঘন জনসংখ্যার এই দেশে সাড়ে চার লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষকে কোথায় স্থান দিবেন?
২। এই অঞ্চলের দুপি টিলার আনুমানিক ৫০ লাখ ৬০ হাজার কোটি লিটার পানি যে ধ্বংস হবে- এর সমাধান কি?
২০০৫-২০০৬ সালে ফুলবাড়ী খনি প্রকল্পের পরিবেশগত ও সামাজিক ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের জন্য তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। সেপ্টেম্বর মাসে এই কমিটি সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। রিপোর্টে উল্লেখ করে যে, খনির কারণে ভূগর্ভস্থ পানি পাম্প করে তুলে ফেলার (De-watering) ফলে ১,২৯,৪১৭ জন মানুষ সরাসরি এবং আরও ২,২০,০০০ জন মানুষ পরোক্ষভাবে মারাত্মক পানি সংকটে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ২০ বছর পর এই সংখ্যাটা এখন ৪ লাখ ৩৫ হাজার থেকে ৪ লাখ ৪৫ হাজার। এই গেল জনসংখ্যার হিসাব।
ভারত থেকে আমাদের দেশের বিভিন্ন ইটভাটা, সিমেন্ট কারখানা, স্টিল মিল এবং রামপাল মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্লান্টে ভারতের কয়লা ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকেও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ আমদানি করে, যা পরোক্ষভাবে ভারতের কয়লা ব্যবহারের সাথে জড়িত। ভারত ছাড়াও বাংলাদেশের অন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, রাশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া থেকেও কয়লা আমদানি করে থাকে।
এখন ফুলবাড়িতে উন্মুক্ত কয়লা খনি করার বিরোধিতা করলে আমি, আমরা ভারতের দালাল হয়ে গেলাম? প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করে, পুরা অঞ্চলে পানি, পরিবেশ ধ্বংস করে, ইকোসাইড চালানোকে সমর্থন করলে আমার ইমান, আমল ভাল হয়ে যাবেতো, তাইনা?
লেখক: মাহবুব সুমন, কেমিস্ট (লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)
- মতামত লেখকের নিজস্ব






