রাজধানীর গুলশানে চার বছর বয়সী পোষা কুকুর কাইকে গাড়িচাপা দিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় একটি টয়োটা ফরচুনার গাড়ি শনাক্ত করেছে পুলিশ। গাড়িটির নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। তবে ঘটনার সময় গাড়িটি কে চালাচ্ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গুলশান থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক আলমগীর দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, গতকাল রাতে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন টিবিএসকে বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে গাড়িটি শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং গাড়িটি বাসায় প্রবেশের সময়ের ফুটেজও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, পোষা কুকুরটির মৃত্যুর ঘটনায় চালকের অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার সময় চালকের আসনে কে ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিচার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট
কাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার চেয়ে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন ইপসা আদিবা। সেখানে তিনি লেখেন, ‘কাইকে যে হত্যা করেছে, সেই ব্যক্তিকে খুঁজে পেতে আমাকে সাহায্য করুন।’
আদিবার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে গুলশানের ৬৩ নম্বর সড়কে খেলছিল চার বছর বয়সী হ্যাসকি জাতের সাইবেরীয় কুকুর কাই। এ সময় একটি টয়োটা ফরচুনার গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আদিবা জানান, আশপাশের ভবনের নিরাপত্তাকর্মীরা গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করলেও চালক গাড়ি থেকে নামেননি। পরে তিনি গাড়িটি নিয়ে চলে যান।
এ ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন বলেও জানান আদিবা। তাঁর কাছে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। তবে ওই ফুটেজে গাড়ির নিবন্ধন নম্বর স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। এ কারণে গুলশান এলাকার কেউ গাড়িটি চিনতে পারলে বা এর মালিক সম্পর্কে তথ্য জানলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ জানান তিনি।
কাইয়ের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে আদিবা লেখেন, কাই তাঁর কাছে শুধু একটি কুকুর ছিল না; সে ছিল তাঁর সন্তান, পরিবারের চেয়েও বেশি কিছু।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে কেউ একটি অসহায় প্রাণীকে গাড়িচাপা দিয়ে এমনভাবে চলে যেতে পারেন, যেন কিছুই ঘটেনি। ভবিষ্যতে অন্য কারও সন্তান বা পোষা প্রাণীর সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে উল্লেখ করে পোস্টটি ছড়িয়ে দেওয়ার এবং দায়ী ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে সহায়তার আহ্বান জানান তিনি।
গাড়ির মালিক সম্পর্কে তথ্য দিলেন গণমাধ্যমকর্মী
এদিকে মঙ্গলবার সকালে প্রবাসী গণমাধ্যমকর্মী জুলকারনাইন সায়ের তাঁর ফেসবুক পোস্টে জানান, গুলশান-২-এর ৬৩ নম্বর সড়কে কুকুরটিকে গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনায় জড়িত গাড়িটির মালিকের সন্ধান পাওয়া গেছে।
একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি জানান, গাড়ির মালিকের প্রাপ্তবয়স্ক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী সন্তান প্রায়ই অল্প দূরত্বে নিজের বিনোদনের জন্য গাড়িটি চালাতেন। ঘটনার দিনও ওই যুবক গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং গাড়িটির নিয়মিত চালক পাশের আসনে বসে ছিলেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এ তথ্যের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময় গাড়িটি কে চালাচ্ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
কাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি এখন তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে।






