চীনের তাকলামাকান মরুভূমির গভীরে তেল অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রায় ৫০ কোটি বছরের পুরোনো শিলার সন্ধান পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। ভূগর্ভের প্রায় ৮ হাজার ৮০ মিটার গভীর থেকে শিলার নমুনাটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই অনুসন্ধান কোনো সাধারণ গবেষণাগারে নয়, বরং একটি সক্রিয় তেলক্ষেত্রে পরিচালিত হচ্ছে।
চীনের ফুমান তেলক্ষেত্রে ৬ হাজার মিটারেরও বেশি গভীর ভূস্তর থেকে ইতিমধ্যে ২ কোটি ৬০ লাখ টনের বেশি তেল ও গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এবার আরও গভীরের প্রাচীন শিলাস্তর নিয়ে গবেষণা ভূগর্ভের গঠন ও তেল-গ্যাসের সম্ভাবনা সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে।
এত গভীরে খনন করা কতটা কঠিন?
ভূগর্ভের গভীরতা যত বাড়ে, ততই বাড়তে থাকে তাপমাত্রা ও চাপ। একই সঙ্গে শিলার কঠোরতা, ভূস্তরের জটিল গঠন এবং খননযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে কাজটি কঠিন হয়ে ওঠে। তাই ৮ কিলোমিটারের বেশি গভীরে খনন শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পরীক্ষা নয়, প্রকৌশলীদের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ।
এ ধরনের গভীর খনন থেকে পাওয়া শিলার নমুনা ভূতাত্ত্বিকদের পৃথিবীর অতীত সম্পর্কে ধারণা পেতে সাহায্য করতে পারে। শিলার গঠন, খনিজ উপাদান এবং রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানতে পারবেন, কী ধরনের পরিবেশে এসব শিলা তৈরি হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে সেগুলোর পরিবর্তন কীভাবে ঘটেছে।
প্রাচীন শিলায় কি তেল-গ্যাস থাকতে পারে?
উদ্ধার করা শিলার নমুনা নিয়ে গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এত প্রাচীন শিলাস্তরের সঙ্গে তেল ও গ্যাসের সম্পর্ক কী?
তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সাধারণত জৈব পদার্থসমৃদ্ধ উৎসশিলা থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তাপ ও চাপের প্রভাবে তৈরি হয়। পরে ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় সেগুলো ছিদ্রযুক্ত শিলায় জমা হতে পারে এবং উপযুক্ত আবদ্ধ স্তর থাকলে সেখানে সঞ্চিত থাকে।
তবে কোনো শিলা ৫০ কোটি বছরের পুরোনো হলেই সেখানে তেল-গ্যাস পাওয়া যাবে, এমন নয়। শিলার গঠন, জৈব পদার্থের উপস্থিতি, তাপীয় ইতিহাস এবং হাইড্রোকার্বন উৎপাদন ও সঞ্চয়ের উপযোগী ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি, সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।
তাই উদ্ধার করা নমুনার বিশ্লেষণ থেকে বিজ্ঞানীরা বোঝার চেষ্টা করবেন, এই প্রাচীন শিলাস্তর তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে কতটা সম্ভাবনাময়।
ভবিষ্যতে কী সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে?
গভীর ভূস্তর থেকে পাওয়া নমুনা সম্পর্কে গবেষণার ফল গুরুত্বপূর্ণ হলে অতি গভীরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের নতুন কৌশল উদ্ভাবনে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে ভূগর্ভের প্রাচীন শিলাস্তর, পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক বিবর্তন এবং খনিজ সম্পদের অবস্থান সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
তবে একটি শিলার নমুনা উদ্ধার করা আর সেখানে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য তেল-গ্যাসের মজুত প্রমাণ করা এক বিষয় নয়। এ জন্য বিস্তারিত ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধান প্রয়োজন।
পৃথিবীর উপরিভাগে মরুভূমি যতই নিষ্প্রাণ মনে হোক, তার গভীরে লুকিয়ে থাকতে পারে কোটি কোটি বছরের ইতিহাস। আধুনিক খননপ্রযুক্তি সেই ইতিহাসের আরও গভীরে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করছে। এবার সেই প্রাচীন শিলা বিজ্ঞানীদের সামনে কী নতুন তথ্য তুলে ধরে, সেটিই দেখার বিষয়।






