সারাদিনের ক্লান্তি শেষে পোষা বিড়ালকে পাশে নিয়ে বসা কিংবা তার গায়ে হাত বুলিয়ে দেওয়ায় অনেকেই স্বস্তি অনুভব করেন। বিড়ালের সঙ্গে মানুষের এই ঘনিষ্ঠতা শুধু আবেগের বিষয় নয়, শরীরের হরমোনের সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের গবেষণায় বিড়াল ও তাদের মালিকদের শরীরে অক্সিটোসিন ও কর্টিসল হরমোনের ভূমিকা নিয়ে এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে।
অক্সিটোসিনকে সামাজিক বন্ধন ও পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতার সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে, কর্টিসল শরীরের মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব বিড়ালের শরীরে অক্সিটোসিনের মাত্রা বেশি, তাদের মালিকদের শরীরেও এই হরমোনের মাত্রা তুলনামূলক বেশি ছিল। এ ফলাফল বিড়াল ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের সঙ্গে হরমোনের যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পোষা বিড়ালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও মানসিক অস্থিরতা তুলনামূলক কম দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি তাঁরা নিজেদের বেশি প্রাণবন্ত ও কর্মক্ষম অনুভব করার কথাও জানিয়েছেন।
গবেষকদের ধারণা, বিড়ালের সঙ্গে সময় কাটানো, তার গায়ে হাত বুলিয়ে দেওয়া কিংবা পাশে নিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার মতো আচরণ মানুষ ও প্রাণীর পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করতে পারে। এর সঙ্গে অক্সিটোসিনের মতো হরমোনের সম্পর্ক থাকতে পারে।
তবে এসব ফলাফল থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে বিড়ালের সঙ্গে সময় কাটালেই মানুষের মানসিক চাপ কমে যায়। মানুষের মানসিক সুস্থতা ও বিড়ালের আচরণ পরস্পরকে প্রভাবিত করতে পারে। এ ছাড়া হরমোনের পরিবর্তন ও মানসিক অবস্থার মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও একটিই যে অন্যটির কারণ, তা প্রমাণিত হয় না।
তাই বিড়াল ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক কীভাবে মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে, তা আরও ভালোভাবে বুঝতে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। তবে পোষা প্রাণীর সঙ্গে স্নেহপূর্ণ সম্পর্ক যে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে আনন্দ ও মানসিক প্রশান্তির অনুভূতি এনে দিতে পারে, তা এই গবেষণার বিষয়টিকে আরও আগ্রহোদ্দীপক করে তুলেছে।






