ডেস্ক রিপোর্ট
গ্রিনল্যান্ডের পেটারম্যান হিমবাহ থেকে ম্যানহাটন দ্বীপের প্রায় সমান আয়তনের বিশাল একটি বরফখণ্ড বিচ্ছিন্ন হয়ে সাগরে ভেসে গেছে। গত ৪ আগস্ট ভাসমান বরফজিহ্বা থেকে প্রায় ৭৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি বিশাল ‘আইস আইল্যান্ড’ আলাদা হয়ে যায়। এর পুরুত্ব সর্বোচ্চ প্রায় ১৫০ মিটার।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ESA) কোপার্নিকাস সেন্টিনেল-১ স্যাটেলাইটের রাডার চিত্রে এই ভাঙনের ঘটনা ধরা পড়ে। ৩ আগস্টের চিত্রে বরফজিহ্বার মাঝামাঝি অংশে বড় ধরনের ক্ষয় ও ফাটল দেখা যায়। পরদিনই বিশাল অংশটি হিমবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ESA জানিয়েছে, এটি ২০১২ সালের পর পেটারম্যান হিমবাহের ভাসমান বরফের সবচেয়ে বড় ক্ষয়। একই সঙ্গে ২০২০ সালের পর আর্কটিক অঞ্চলে এটিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বরফখণ্ড বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠ কি বাড়বে?
বরফখণ্ডটি আগে থেকেই সমুদ্রে ভাসমান থাকায় এর বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে সরাসরি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে না। তবে ভাসমান বরফজিহ্বার বড় অংশ হারিয়ে গেলে স্থলভাগের বরফের সমুদ্রের দিকে প্রবাহের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তাই বিজ্ঞানীরা এখন হিমবাহটির গতি ও অবশিষ্ট বরফজিহ্বার স্থিতিশীলতা পর্যবেক্ষণ করছেন।
আরও বড় বরফখণ্ড ভাঙার আশঙ্কা
বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, পেটারম্যান হিমবাহের ভাসমান অংশে এখনো বড় বড় ফাটল রয়েছে। এগুলো আরও বিস্তৃত হলে প্রায় ৯৭ ও ৮৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের আরও দুটি বিশাল বরফখণ্ড বিচ্ছিন্ন হতে পারে। তবে এগুলো ঠিক কখন ভাঙবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এদিকে নতুন বরফদ্বীপটির গতিপথও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এত বড় বরফখণ্ড দীর্ঘ সময় সাগরে টিকে থাকতে পারে এবং ধীরে ধীরে ভেঙে ছোট ছোট অংশে পরিণত হতে পারে। ফলে আর্কটিক অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ও সামুদ্রিক অবকাঠামোর জন্যও এটি দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পেটারম্যান হিমবাহে এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, পৃথিবীর মেরু অঞ্চলের বরফব্যবস্থা কত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের নজর এখন, অবশিষ্ট বরফজিহ্বা কতটা স্থিতিশীল থাকে এবং সামনে আরও বড় কোনো বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটে কি না।






