গবেষণালব্ধ জনস্বাস্থ্য উদ্ভাবন নিয়ে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ অংশ নিয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ-আইসিডিডিআর,বি। মেলায় শিশুদের গুরুতর নিউমোনিয়ার চিকিৎসায় স্বল্পমূল্যের বাবল-সিপ্যাপ এবং শিশু অপুষ্টি মোকাবিলায় মাইক্রোবায়োটা-ডিরেক্টেড ফুডসহ গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন তুলে ধরা হচ্ছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ১২ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার নভো থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬।
মেলার দ্বিতীয় দিনে সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ খান।
‘লাখো মানুষের জীবন রক্ষা করেছে আইসিডিডিআর,বি’
আইসিডিডিআর,বির জীবনরক্ষাকারী উদ্ভাবনের ঐতিহ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস), বাবল-সিপ্যাপ এবং মা ও শিশুর পুষ্টি-সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্ভাবনের মাধ্যমে আইসিডিডিআর,বি লাখো মানুষের জীবন রক্ষা করেছে।”
আলোচনায় জনস্বাস্থ্য গবেষণায় উদ্ভাবনের পরিবেশ আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন ড. তাহমিদ আহমেদ। তিনি বলেন, “গবেষণাকে এগিয়ে নেওয়া এবং উদ্ভাবনী ধারণাগুলোকে কার্যকর স্বাস্থ্যসমাধানে রূপ দেওয়ার জন্য বৈজ্ঞানিক ও ল্যাবরেটরি অবকাঠামোতে প্রবেশাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ- বিসিএসআইআরের অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ প্রসঙ্গে সরকার ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান তিনি।
‘স্বাস্থ্য কোনো বিশেষ সুবিধা নয়’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জোবায়দা রহমান বলেন, “স্বাস্থ্য কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার।” তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে মূল্যবান উদ্ভাবন হলো সেটিই, যা রোগীদের বাস্তব সমস্যার সমাধান করে।”
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য গবেষণায় ব্যয়কে কেবল খরচ হিসেবে দেখলে চলবে না। এগুলোকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
গবেষক-উদ্ভাবক-শিল্পখাতের মিলনমেলা
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ গবেষক, উদ্ভাবক, সরকারি সংস্থা ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন। মেলায় দেশীয়ভাবে উদ্ভাবিত বিভিন্ন সমাধান প্রদর্শনের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে বৃহত্তর জনকল্যাণে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে মতবিনিময় হচ্ছে।
আইসিডিডিআর,বির অংশগ্রহণে মেলায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে গবেষণাকে বাস্তব স্বাস্থ্যসেবায় রূপান্তরের গুরুত্ব, যেখানে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিশুদের নিউমোনিয়া ও অপুষ্টির মতো বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলার সম্ভাবনা দেখানো হচ্ছে।
সূত্র: আইসিডিডিআর,বি






