দেশে প্রথমবারের মতো বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প থেকে কার্বন ক্রেডিট পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে, অন্যদিকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
কোনো কার্যক্রমের মাধ্যমে বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) বা অন্যান্য ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো গেলে তার বিপরীতে কার্বন ক্রেডিট পাওয়া যেতে পারে। সাধারণভাবে একটি কার্বন ক্রেডিট সমান এক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো কিংবা বাতাসে যেতে না দেওয়ার স্বীকৃতি।
রাজধানীর আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ শুরু হয় কয়েক বছর আগে। সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পরিচালনায় এ প্রকল্পে বর্জ্য ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য চীনের সঙ্গে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তিও হয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কার্বন ক্রেডিট পাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মিথেন গ্যাস। বর্জ্য পচনের সময় মিথেন তৈরি হয়, যা গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় এই গ্যাস ধ্বংস করা বা কাজে লাগানো সম্ভব হলে গ্রিনহাউস গ্যাসের ক্ষতিকর প্রভাব কমানো যায়।
তবে কার্বন ক্রেডিট পেতে হলে প্রকল্পের মাধ্যমে কত পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো হয়েছে, তার সঠিক হিসাব, পরিমাপ ও নিরপেক্ষ যাচাই প্রয়োজন। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সেই হিসাব অনুমোদিত হলে অর্জিত কার্বন ক্রেডিট পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কোম্পানি বা কার্বন বাজারে বিক্রি করে অর্থ আয় করা সম্ভব।
ফলে আমিনবাজারের বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেই নয়, ভবিষ্যতে জলবায়ু অর্থায়নের নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বারও খুলে দিতে পারে।






