পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় বন বিভাগের বনায়নের গাছ কেটে জমি দখল করে তরমুজখেত তৈরির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেত্রীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শাহিন হাওলাদার গলাচিপা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেনু আক্তারের ছোট ভাই। এ ঘটনায় শাহিন হাওলাদারসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বন বিভাগ।
গত শনিবার গলাচিপা থানায় জিডি করেন গলাচিপা উপজেলা ডেপুটি রেঞ্জার ও চরআগস্তি বনায়নের বিট কর্মকর্তা আবদুর বারীক।
জিডি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরবিশ্বাস এলাকায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭৫ হেক্টর জমিতে ম্যানগ্রোভ বন গড়ে তোলে বন বিভাগ। অভিযোগ উঠেছে, বেশ কিছুদিন ধরে ওই বনের গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছেন শাহিন হাওলাদার (৪২) ও তাঁর সহযোগী মো. ফারুক (৫৫), আজাদ তালুকদার (৫০) এবং আবদুর রহিম।
বন বিভাগের অভিযোগ, গত শুক্রবার বিকেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই বনে প্রবেশ করে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের ৪০০ থেকে ৫০০টি গাছ কেটে ফেলেন। পরে বনের গাছ উপড়ে ফেলে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে তরমুজখেত তৈরির কাজ শুরু করেন তাঁরা।
চরআগস্তি বনায়নের বিট কর্মকর্তা আবদুর বারীক প্রথম আলোকে বলেন, শাহিন হাওলাদার ও তাঁর লোকজন বনের ১০ থেকে ১১ বছর বয়সী কেওড়া, শৈলা, গেওয়া ও বাইনগাছ উপড়ে ফেলেছেন। এরপর প্রায় ২০০ একর জমিতে মাটি কেটে বাঁধ তৈরির কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে গত শুক্রবার বিকেলে তিনি বনকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গাছ কাটা ও মাটি কাটার কাজ বন্ধ করতে বলেন।
আবদুর বারীকের অভিযোগ, তাঁর নিষেধ অগ্রাহ্য করে শাহিন হাওলাদার উল্টো তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা বনকর্মীদের লাঞ্ছিত করেন। এ সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁদের ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গলাচিপা উপজেলা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তাকে জানান তিনি। এরপর গলাচিপা থানায় জিডি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গত শনি, রবি ও সোমবার, এই তিন দিনে শাহিন হাওলাদারের মুঠোফোনে আটবার ফোন করা হয়। এর মধ্যে পাঁচবার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বাকি তিনবার ফোনে রিং হলেও তিনি ধরেননি। গত রোববার সন্ধ্যায় সাংবাদিক পরিচয়ে খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। তবে তিনি কোনো সাড়া দেননি।
এদিকে স্থানীয় ব্যক্তিদের মুঠোফোনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে শাহিন হাওলাদারকে ওই জমি নিজের বলে দাবি করতে দেখা গেছে। ভিডিওতে বন কর্মকর্তা আবদুর বারীক ও তাঁর সঙ্গে থাকা বনকর্মীদের সঙ্গে তাঁকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতেও দেখা যায়।
অভিযোগ অস্বীকার করে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেনু আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক দিন ধরে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। বন বিভাগের গাছ কেটে তরমুজখেত তৈরির বিষয়টি তিনি জানেন না। এ বিষয়ে তাঁর ভাই শাহিন হাওলাদারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
গলাচিপা উপজেলা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, দক্ষিণ চরবিশ্বাস এলাকায় বন বিভাগের বনায়ন রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় শাহিন হাওলাদার সেই বনায়ন ধ্বংস করে তরমুজখেত তৈরি করছেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।






