ব্যস্ত জীবনে খাবারের অপচয় কমাতে এবং সময় বাঁচাতে ডিপ ফ্রিজ অনেকেরই নিত্যদিনের ভরসা। সাধারণ ফ্রিজের তুলনায় এতে খাবার দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করা সম্ভব হলেও ডিপ ফ্রিজ খাবারের গুণমান অনির্দিষ্টকাল ধরে রাখতে পারে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খাবারের গঠন, স্বাদ ও সামগ্রিক মান ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
কানাডার ইউনিভার্সিটি অব গুয়েলফের খাদ্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কিথ ওয়ারিনারের মতে, খাবার হিমায়িত করার সময় এর ভেতরের পানির অংশ বরফে পরিণত হয়। এতে জীবাণুর বৃদ্ধি অনেকটাই থেমে যায়, কিন্তু খাবারের রাসায়নিক পরিবর্তন পুরোপুরি বন্ধ হয় না। দীর্ঘসময় সংরক্ষণে খাবারে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি চর্বিযুক্ত খাবারে ‘ফ্রিজার বার্ন’ দেখা দিয়ে স্বাদ ও গুণমান নষ্ট হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেসের নির্দেশিকা অনুযায়ী, অনেক খাবার সাধারণত এক থেকে দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে ভালো গুণমান ধরে রাখে। তবে খাবারের ধরন অনুযায়ী এই সময়সীমা ভিন্ন হয়।
কাঁচা মাংসের ক্ষেত্রে একটি সম্পূর্ণ মুরগি প্রায় এক বছর এবং টুকরো করা মুরগি প্রায় নয় মাস পর্যন্ত ভালো মান ধরে রাখতে পারে। গরু, খাসি বা ভেড়ার মাংসের বিভিন্ন টুকরো চার মাস থেকে এক বছর এবং কিমা করা মাংস তিন থেকে চার মাসের মধ্যে ব্যবহার করা ভালো। রান্না করা স্যুপ বা স্ট্যু দুই থেকে তিন মাস এবং অন্যান্য রান্না করা মাংস দুই থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। পিৎজা বা চিকেন নাগেটের মতো তৈরি খাবার এক থেকে তিন মাসের মধ্যে খাওয়া শ্রেয়।
তবে এসব সময়সীমাকে খাবারের ‘মেয়াদ শেষের তারিখ’ হিসেবে দেখা যাবে না। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেই খাবার বিষাক্ত বা খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায়—বিষয়টি এমন নয়। মূলত সময় বাড়ার সঙ্গে খাবারের স্বাদ, গঠন ও পুষ্টিগুণের মান কমতে পারে।
সব খাবার আবার ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণের জন্য উপযোগী নয়। সালাদে ব্যবহৃত বিভিন্ন পাতা, সাইট্রাস ফল ও কাঁচা আলুর মতো পানির পরিমাণ বেশি এমন খাবার ফ্রিজ থেকে বের করার পর নরম ও পানিযুক্ত হয়ে যেতে পারে। দই বা কিছু ধরনের চিজ জমিয়ে রাখলে এর গঠন পরিবর্তিত হয়ে ছানা কেটে যাওয়ার মতো অবস্থা হতে পারে।
এ ছাড়া খোসাসহ কাঁচা ডিম এবং সিল করা ক্যান ডিপ ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। কারণ জমে যাওয়ার সময় ভেতরের তরলের আয়তন বেড়ে গিয়ে এগুলো ফেটে যেতে পারে।
খাবারের মান ভালো রাখতে সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও কিছু সতর্কতা জরুরি। গরম খাবার সরাসরি ডিপ ফ্রিজে না রেখে আগে সাধারণ ফ্রিজে ঠান্ডা করে নেওয়া ভালো। এরপর বায়ুরোধী পাত্র বা ফ্রিজার-সেফ ব্যাগে সংরক্ষণ করতে হবে। তরল ও নরম খাবার জমাট বাঁধার সময় আয়তনে বাড়তে পারে। তাই এসব খাবার রাখার পাত্রে কিছুটা খালি জায়গা রাখা উচিত।
অর্থাৎ, ডিপ ফ্রিজ খাবার সংরক্ষণের সময় বাড়াতে পারে, কিন্তু খাবারের গুণমান ধরে রাখার নিশ্চয়তা অনির্দিষ্টকালের জন্য দেয় না। সঠিক খাবার, সঠিক পদ্ধতি এবং উপযুক্ত সময়সীমা মেনে সংরক্ষণ করাই নিরাপদ ও মানসম্মত খাবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: বণিক বার্তা






