বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য নিয়ে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে ৬৫ প্রজাতির সামুদ্রিক জীবের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি প্রজাতি পৃথিবীর অন্য কোথাও নথিভুক্ত হয়নি বলে জানা গেছে।
জাতিসংঘের EAF-Nansen প্রোগ্রামের অধীনে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে (EEZ) এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় প্রায় ৭৩০ মিটার গভীর পর্যন্ত অনুসন্ধান চালানো হয়।
জরিপের আওতায় এমন কিছু এলাকায় জাল ফেলে সামুদ্রিক জীব সংগ্রহ করা হয়, যেসব স্থান এর আগে অনাবিষ্কৃত ছিল। এতে মাছের লার্ভা, প্লাঙ্কটন ও বিভিন্ন ধরনের জেলিফিশসহ বিপুলসংখ্যক সামুদ্রিক জীবের সন্ধান পাওয়া যায়।
জরিপে প্রায় ৪০ সদস্যের একটি দল অংশ নেয়। সমুদ্রের তুলনামূলক গভীর ও আগে অনুসন্ধান না করা এলাকায় অভিযান পরিচালনার ফলে বাংলাদেশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন তথ্য উঠে এসেছে।
এর আগে বাংলাদেশে নথিভুক্ত সামুদ্রিক প্রাণীর সংখ্যা ছিল ৪৭৫টি। নতুন জরিপের তথ্য যুক্ত হলে নথিভুক্ত সামুদ্রিক প্রাণীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গবেষকদের মতে, বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশের অংশে গভীর সমুদ্রসহ অনাবিষ্কৃত এলাকায় আরও গবেষণা পরিচালনা করা হলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে এসব জীব ও তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রেও এই ধরনের জরিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: বিজ্ঞানপ্রিয়






