পাহাড়ের গভীর বন থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সাম্বার হরিণ। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় মায়া হরিণের দেখা মিললেও সাম্বার এখন বেশ দুর্লভ। বিপন্ন অবস্থায় থাকা এই প্রাণীটি এখনো পাহাড়ি বনে টিকে থাকলেও এর অস্তিত্ব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সাম্বার হরিণ একসময় পাহাড়ি বনাঞ্চলের পরিচিত বন্যপ্রাণী হলেও বর্তমানে এর দেখা পাওয়া বেশ কঠিন। মায়া হরিণ তুলনামূলকভাবে চোখে পড়লেও সাম্বারের উপস্থিতি এখন অনেকটাই বিরল। বন উজাড়, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া এবং শিকারসহ নানা কারণে পাহাড়ি বন্যপ্রাণীর ওপর চাপ বাড়ছে।
প্রায় তিন বছর আগে রাঙামাটির লংগদুতে একটি সাম্বার হরিণ হত্যার ঘটনায় বন বিভাগ একজনকে আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছিল। ঘটনাটি পাহাড়ি এলাকায় এই বিরল প্রাণীর শিকার বন্ধে নজরদারির প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছিল।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রজাতি একটি এলাকায় টিকে থাকার জন্য শুধু বন থাকলেই হয় না; প্রয়োজন নিরাপদ আবাসস্থল, পর্যাপ্ত খাদ্য এবং শিকারমুক্ত পরিবেশ। সাম্বারের মতো বড় স্তন্যপায়ী প্রাণীর জন্য বিস্তৃত বনাঞ্চল ও নিরাপদ চলাচলের পথও গুরুত্বপূর্ণ।
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি বন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডার। এখানে সাম্বারসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রয়েছে। এসব প্রাণী রক্ষায় বন সংরক্ষণের পাশাপাশি শিকার ও বন্যপ্রাণী পাচার ঠেকানো জরুরি।
সাম্বার হরিণের মতো দুর্লভ বন্যপ্রাণীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পার্বত্য চট্টগ্রামে বন বিভাগের আরও বিশেষায়িত নজরদারি প্রয়োজন। এ জন্য পৃথক ও কার্যকর বন্যপ্রাণী ইউনিট গঠন, নিয়মিত নজরদারি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা সময়ের দাবি।
পাহাড়ে একটি সাম্বার হরিণের দেখা পাওয়া এখন শুধু একটি ছবি তোলার ঘটনা নয়। এটি মনে করিয়ে দেয়, এই প্রাণীগুলো এখনো আমাদের পাহাড়ে আছে, কিন্তু তাদের ভবিষ্যৎ কতটা নিরাপদ, সেটিই বড় প্রশ্ন।






