ফার্মগেট এ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল ভবনের কাছেই ছিল চমৎকার লাল রঙের প্রাচীন এক ভবন। সম্ভবত ব্রিটিশ আমলে তৈরি। সরকারি অফিস হিসাবেই ব্যবহৃত হত। হঠাৎ একদিন দেখলাম সেটা ভাঙা হচ্ছে। ভাঙার অজুহাত তো তৈরি রয়েছেই। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা! সব সৌন্দর্য, ঐতিহ্য, ইতিহাস এদেশে উপেক্ষা করা হয় অবলীলায়। এতে কারো কোন অপরাধবোধ কিংবা অনুশোচনা হয়না! খোলা মাঠ, ফাঁকা জায়গায় ইমারত বানিয়ে এদেশে বলা হয় ‘উন্নয়ন’ হয়েছে! নগর পরিকল্পনায় কোথাও এতটুকু নান্দনিকতা, পরিবেশ/ প্রকৃতি সংরক্ষণ বা ঐতিহ্য লালন করার তাগিদ দেখা যায়না!
দেখতে দেখতে ঢাকার যেখানে যতটুকু উন্মুক্ত জায়গা ছিল তাতে থাবা বসানোর কাজ প্রায় শেষ! মনে আছে, আশির দশকে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের ভেতর দিয়ে হেঁটে গেলে ইউরোপ আমেরিকা স্ট্যান্ডার্ডের কোন ন্যাশনাল পার্ক বলে মনে হত। অথচ আজ এর কী দশা হয়েছে। গাছ কেটে ফেলাকে এদেশে কোন ব্যাপার বলে মনে করা হয়না। অথচ গাছের সৌন্দর্য তথা ইকো সিস্টেমের সৌন্দর্য বোঝার ক্ষমতা না থাকলে তাকে স্বাভাবিক মানুষ বলা যাবে কি?
ফাঁকা, উন্মুক্ত জায়গা বা হোয়াইট স্পেস কতটা প্রয়োজনীয় তা সচেতন মানুষ মাত্রই জেনে থাকবেন। মানুষ হাঁপিয়ে উঠলে, দমবন্ধ করা পরিবেশ উপস্থিত হলে খোলা মাঠে, নদীর পারে গিয়ে চঞ্চল চিত্ত জুড়ায়।
শহরের নানা জায়গায় সৌন্দর্য বর্ধনের নামে যেসব স্থাপনা, ফোয়ারা এসব তৈরি হয়েছে সেসব খুব দ্রুত নোংরা, শ্রী-হীন হাস্যকর জিনিসে রূপান্তরিত হয়েছে। শহরের কোটি মানুষের অধিকাংশ যেখানে অসচেতন, সিভিক সেন্স বিহীন, কান্ডজ্ঞান হীন সেখানে এতসব বহুমূল্য স্থাপনা তার মান সম্মান নিয়ে বাঁচবে এমন আশা করা অর্থহীন।
অথচ দেখুন, একটা গাছের সৌন্দর্য আর উপযোগিতা। কোন খরচ নেই, আছে কেবল হাজারো উপকার, সুফল।
🌿🌻🥀
“…গাছপালায় ঘেরা সুনসান নীরব গ্রাম। গ্রামের এক পাশে নদীর কাছাকাছি বিশাল এলাকাজুড়ে যেদিকে চোখ যায় শুধু সবুজ ধানখেত। এমন গাঢ় সবুজের মাঝখানে একটি জায়গায় চোখ আটকে যায়। সেখানে হাজারো ফুল মাথায় নিয়ে একা দাঁড়িয়ে আছে একটি পলাশগাছ। সেই গাছ দেখতে আসছেন দর্শনার্থীরা। কেউ গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ দল বেঁধে আড্ডা দিচ্ছেন।
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের সেলদিয়া গ্রামে আছে এই গাছ। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দাদের দাবি, বুঝতে শেখার পর থেকে গাছটিকে অনেক বয়সী হিসেবেই দেখছেন তাঁরা। গাছটির বয়স ঠিক কত বছর, সেই তথ্য কারও কাছে নেই।”
(তথ্য সূত্র ও ছবি- দৈনিক প্রথম আলো)






