একসময় নেত্রকোনা জেলার প্রাণ বলা হতো মগড়া নদীকে। জেলার বুক চিরে প্রবাহিত এই নদী ছিল যোগাযোগ, জীবিকা ও অর্থনীতির অন্যতম ভরসা। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই খরস্রোতা নদী এখন অনেক জায়গায় মৃতপ্রায়। পলি জমে নাব্যতা হারিয়েছে, কোথাও নদীর বুকে জেগে উঠেছে চর, কোথাও আবার নদী পরিণত হয়েছে সরু নালায়।
দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনার কারণে জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই নদী আজ অস্তিত্ব সংকটে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মগড়া নদী নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সর্পিলাকার নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১১২ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ প্রায় ৭৭ মিটার। একসময় এটি নেত্রকোনার প্রধান জলপথ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে নাব্যতা সংকট, অবৈধ দখল ও দূষণের কারণে নদীটি অনেক জায়গায় ছোট নালায় পরিণত হয়েছে।
ভৌগোলিকভাবে ধলাই নদী নামে প্রবাহিত হয়ে পূর্বধলা উপজেলার হোগলা বাজারের পাশ দিয়ে পূর্বধলা সদর অতিক্রম করে ত্রিমোহনীতে এসে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন অংশে গিয়ে দেখা যায়, নদীর বহু জায়গায় পলি জমে প্রস্থ কমে গেছে। কোথাও বড় চর জেগে উঠেছে, কোথাও আবার সামান্য হাঁটু পানি টিকে আছে। নদীর বুকের ভেতরেই বিভিন্ন স্থানে কৃষিকাজ শুরু হয়েছে।
আটপাড়ার বানিয়াজান গ্রামের কৃষক একলাছ মিয়া বলেন, আগে নদী থেকে সেচের পানি পাওয়া যেত। এখন নদীতে পানি নেই বললেই চলে। ফলে কৃষিকাজও কঠিন হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন নদী খনন না হওয়া, নদীর তীর ও বুক দখল করে স্থাপনা নির্মাণ এবং শহরের বর্জ্য ফেলার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে নদীটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, নদীটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পুনঃখননসহ বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। এরই মধ্যে মগড়া নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় কয়েকটি অংশ পুনঃখননের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।






