দখল ও দূষণের কারণে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার নদ-নদী ও খালগুলো দিন দিন অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে। নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর বহু নদী তাদের অতীত ঐতিহ্য ও নাব্যতা হারাতে বসেছে। এক সময়ের স্রোতস্বিনী নদীগুলো এখন বর্ষা মৌসুমেও অনেক স্থানে মরা খালের রূপ নিয়েছে।
নওগাঁ জেলার আত্রাই, ছোট যমুনা, তুলশীগঙ্গা, শিবনদ ও নাগর নদসহ অন্তত ছয়টি নদীর অবস্থা বর্তমানে বেহাল। দীর্ঘদিন ধরে খনন না হওয়ায় নদীগুলোতে পলি জমে নাব্যতা কমে গেছে। নদীর দুই তীর দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে ভবন ও শিল্পকারখানা। কোথাও কোথাও নদী এখন ময়লা-আবর্জনা ফেলার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
নাটোর জেলার ১৯টি নদীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছে নারদ ও বড়াল নদী। এছাড়া বারনই ও মুসা নদীও প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে। জেলার ৫৮টি বড় খালের অধিকাংশও দখল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারদলীয় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নদীর সংস্কার ও খাল খননের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই তারা যেন অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়া খাল পুনরুদ্ধার করেন ও সেগুলো খনন করেন সেজন্য সোচ্চার আছে সরকার প্রধান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদীতে রাবার ড্যাম ও পাগলা নদী খননের কারণে কিছুটা নাব্যতা থাকলেও পুনর্ভবা ও পদ্মা নদীতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার অধিকাংশ খাল দখল ও দূষণের কারণে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খাল খননের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
রাজশাহী শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীর তীরেও দখলের চিত্র স্পষ্ট। লালন শাহ মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে শতাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানপাট। একইভাবে জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীতে বাঁধ দিয়ে ধান ও মাছের চাষ করা হচ্ছে। এছাড়া মহানগরীর বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি বারনই নদীতে পড়ায় পবা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষি উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
অনেক দখলদার লিজ ছাড়াই সরকারি জায়গায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা স্বীকার করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ সরকারি জমিকে নিজেদের দাবি করে চাঁদা আদায়ও করছেন।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, মহানগরীতেই অবৈধ দখলদারের সংখ্যা ১ হাজার ৬১২ জন। ইতোমধ্যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং নোটিশ দিয়ে দ্রুত উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে কিছু মৃতপ্রায় নদী ও খাল দখলমুক্ত করে সংস্কার ও খননকাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব নদী ও খাল পুনরুদ্ধারে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এবং রাজশাহী বিভাগের আট জেলাতেই ধারাবাহিকভাবে কাজ চলবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগে ৪০টিরও বেশি নদ-নদী ও খাল বর্তমানে দখল ও দূষণের কারণে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। অথচ দুই যুগ আগেও এসব নদীতে পর্যাপ্ত নাব্যতা ছিল। নদী রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে পরিবেশ, কৃষি ও জনজীবনে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






