দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ইউরোপগামী এমভি হন্ডিয়াস নামের একটি প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত জাহাজটির পাঁচজন যাত্রী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভাইরাসটির একটি বিশেষ ধরন—অ্যান্ডিস স্ট্রেইন—মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হতে পারে।
সাধারণত ইঁদুরের মল, মূত্র বা লালার মাধ্যমে হান্টাভাইরাস ছড়ায়। তবে অ্যান্ডিস ভাইরাসের ক্ষেত্রে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্ত ব্যক্তির লালা বা শ্লেষ্মায় ভাইরাসটি থাকতে পারে। ফলে চুম্বন, পানীয় ভাগাভাগি করে পান করা কিংবা খুব কাছ থেকে কাশি ও হাঁচির মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারের অন্য সদস্যদের তুলনায় যৌন সঙ্গীদের মধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ১০ গুণ বেশি।
ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষিণ আমেরিকায় পাখি পর্যবেক্ষণে গিয়ে দুই ডাচ পর্যটক ইঁদুরের মাধ্যমে প্রথমে সংক্রমিত হন। পরে তারাই জাহাজের অন্য যাত্রীদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে দেন।
গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করে এমভি হন্ডিয়াস। জাহাজটিতে প্রায় ১৫০ জন আরোহী ছিলেন। যাত্রাপথে ১১ এপ্রিল একজন যাত্রীর মৃত্যু হয়। পরে ২৪ এপ্রিল কয়েকজন যাত্রী সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নেমে যান। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ওই যাত্রীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
তবে পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, করোনা বা ইনফ্লুয়েঞ্জার তুলনায় এই ভাইরাসের সংক্রমণক্ষমতা অনেক কম। জাহাজের মতো সীমিত ও ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে কাছাকাছি অবস্থানের কারণে সংক্রমণ বেড়েছে, ভাইরাসটির শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত আলাদা করা এবং কোয়ারেন্টাইনের মাধ্যমে এই সংক্রমণ সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্যার Andrew Pollard বলেছেন, হান্টাভাইরাসের এই ধরন মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার মতো দ্রুত সংক্রমণ ঘটায় না।






