যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত বিখ্যাত উপদ্বীপ কেপ কড। মানচিত্রে জায়গাটি দেখতে অনেকটা মানুষের বাঁকানো হাতের মতো। অদ্ভুত আকৃতির এই এলাকায় এবার সন্ধান মিলেছে দুই মাথাওয়ালা একটি বিরল কচ্ছপের। গত পাঁচ বছরের মধ্যে ওই এলাকায় এমন ঘটনা এই প্রথম।
ম্যাসাচুসেটসের কেপ ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টার গত ১৭ সেপ্টেম্বর এক ফেসবুক পোস্টে কচ্ছপটির সন্ধান পাওয়ার কথা জানায়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ম্যাস অডুবন ওয়েলফ্লিট বে ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি তাদের কেন্দ্রে দুটি মাথাওয়ালা ডায়মন্ডব্যাক টেরাপিন প্রজাতির একটি কচ্ছপছানা নিয়ে এসেছে।
কচ্ছপছানাটির ওজন মাত্র ৫ দশমিক ২ গ্রাম। এর শরীরে ‘বাইসেফালি’ নামের একটি বিরল জন্মগত শারীরিক অস্বাভাবিকতা রয়েছে। এ অবস্থায় একটি প্রাণীর একই শরীরে দুটি আলাদা ও সচল মাথা থাকে। অর্থাৎ শরীর একটিই হলেও দুটি মাথাই সচল ও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে।
কচ্ছপটির ছবি প্রকাশ করে কেপ ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টার জানিয়েছে, প্রাণীটির দুটি মাথা ও শরীর কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে, সে বিষয়ে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। এ জন্য তাদের প্রাণী চিকিৎসা দল কচ্ছপটির ওপর নিবিড় নজর রাখছে।
কেপ ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টার জানায়, গত পাঁচ বছরে তারা মাত্র দুটি বাইসেফালিক বা দুই মাথাওয়ালা কচ্ছপ দেখেছে। ফলে গবেষক ও উদ্ধারকারী দলের কাছে ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল। প্রকৃতিতে সাধারণত দুটি মাথাযুক্ত প্রাণী খুব কমই দেখা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে কচ্ছপছানাটিকে আকারে অত্যন্ত ছোট দেখা যায়। হাতের দুটি আঙুল পাশাপাশি রাখলে যতটুকু চওড়া হয়, কচ্ছপছানাটি প্রায় ততটুকুই। এত ছোট শরীরে দুটি মাথা নিয়ে প্রাণীটি কীভাবে টিকে আছে, তা নিয়েই কাজ করছেন গবেষকেরা।
বিপন্ন প্রজাতির কচ্ছপ
ডায়মন্ডব্যাক টেরাপিন প্রজাতির কচ্ছপ সংরক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের বিপন্ন প্রজাতি আইন অনুযায়ী, এই প্রজাতির কচ্ছপকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকৃতিতে এদের সংখ্যা কমে আসছে এবং প্রজাতিটি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।
দুটি মাথা থাকায় কচ্ছপছানাটির খাওয়াদাওয়া, খাবার গেলার প্রক্রিয়া, স্বাভাবিক বৃদ্ধি, চলাফেরা ও আচরণের ওপর গবেষক দল নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। শরীর এক হলেও দুটি মাথা কীভাবে এসব কাজ সমন্বয় করে, তা জানার চেষ্টা করছেন তারা।
আগেও মিলেছিল দুই মাথা ও ছয় পায়ের কচ্ছপ
২০২১ সালের অক্টোবরে নিউ ইংল্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টার ডায়মন্ডব্যাক টেরাপিন প্রজাতির আরেকটি বিরল কচ্ছপছানা খুঁজে পেয়েছিল। ওই ছানাটির দুটি মাথার পাশাপাশি ছয়টি পা ছিল।
আগের ওই কচ্ছপটির ক্ষেত্রে দুটি যমজ অংশের মাঝের বিভাজন বা আলাদা রূপটি তুলনামূলকভাবে বেশি স্পষ্ট ছিল। বার্নস্টেবলের একটি সংরক্ষিত বাসা বাঁধার স্থান থেকে ডিম ফুটে বের হয়েছিল কচ্ছপছানাটি। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বার্নস্টেবলের প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগ এটিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
নিউ ইংল্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টার জানায়, মানুষের ক্ষেত্রে যেমন জোড়া লাগা যমজ দেখা যায়, এই কচ্ছপের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনেকটা তেমন। তারা শরীরের কিছু অংশ যৌথভাবে ব্যবহার করে, আবার কিছু অংশ আলাদাভাবেও থাকে।
তবে এই ধরনের বিরল শারীরিক অস্বাভাবিকতা থাকা প্রাণী সব সময় দীর্ঘদিন বাঁচে না। অনেক ক্ষেত্রে তাদের জীবনযাত্রার মানও স্বাভাবিক প্রাণীর তুলনায় কম হতে পারে।
সূত্র: ইয়াহু নিউজ ও পিপল ডটকম






