বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব সুপার সাইক্লোনে রূপ নিয়েছে বলে দাবি করেছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ওয়েদার হাব বাংলাদেশ। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাতসহ হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে দেশের ৩০টি জেলা ও আশপাশের এলাকায় হলুদ সতর্কতা জারি করেছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৩৯ মিনিটে প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছে। আজ রাত ১১টা থেকে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার মধ্যে ভারতের বিশাখাপত্তনম ও মাচিলিপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানতে পারে।
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাব্য উপকূল অতিক্রমের সময় ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৮০ থেকে ২১০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ২৩০ থেকে ২৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য গতিপথ, উপকূল অতিক্রমের সময় ও তীব্রতা পরিবর্তিত হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের বর্তমান অবস্থান ও তীব্রতা
ওয়েদার হাব বাংলাদেশের ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের অবস্থান ছিল ১৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৮২ দশমিক ৬ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। সংস্থাটির হিসাবে, ঘূর্ণিঝড়টির সর্বোচ্চ এক মিনিটের গড় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২২২ কিলোমিটার এবং সম্ভাব্য দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। কেন্দ্রীয় বায়ুচাপ ছিল ৯৪০ হেক্টোপ্যাসকেল।
স্যাটেলাইটভিত্তিক ছয়টি পদ্ধতিতে ঘূর্ণিঝড়টির তীব্রতা নির্ণয়ের মান ১১৫ থেকে ১২৬ নটের মধ্যে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে এসব পদ্ধতির হিসাব ও বাতাসের গড় নির্ণয়ের সময়সীমায় পার্থক্য থাকতে পারে।
বাংলাদেশের উপকূল থেকে কত দূরে
সংস্থাটির ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র সাতক্ষীরা উপকূল থেকে আনুমানিক ৯৮৪ কিলোমিটার, কুয়াকাটা থেকে ১ হাজার কিলোমিটার এবং মোংলা থেকে ১ হাজার ৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
এ ছাড়া সেন্টমার্টিন থেকে প্রায় ১ হাজার ১৩২ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে প্রায় ১ হাজার ১৪২ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কিলোমিটার দূরে ছিল ঘূর্ণিঝড়টি।
অন্যদিকে, ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া উপকূল থেকে ঘূর্ণিঝড়টির দূরত্ব ছিল প্রায় ৮৫ কিলোমিটার এবং বিশাখাপত্তনম থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে এসব দূরত্বও পরিবর্তিত হতে পারে।
যেসব জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস
ওয়েদার হাব বাংলাদেশের পূর্বাভাসে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইল, বরিশাল, ভোলা, সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, কক্সবাজার, বান্দরবান, ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, গোপালগঞ্জ, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, কুমিল্লা, যশোর, ঝিনাইদহ, রাজবাড়ী, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে হলুদ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির বাইরের বৃষ্টিবলয় ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির প্রভাবে এসব অঞ্চল এবং আশপাশের এলাকায় বজ্রপাতসহ ছিটেফোঁটা থেকে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কোনো কোনো স্থানে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, সাতক্ষীরা, খুলনা, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ভোলাসহ কয়েকটি এলাকায় ইতোমধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি হয়েছে অথবা বৃষ্টিপাত চলছিল। তবে সতর্কতার তালিকায় থাকা সব এলাকায় বৃষ্টি হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এক জেলার একেক এলাকায় বৃষ্টির ধরন ও পরিমাণেও পার্থক্য হতে পারে।
এই পূর্বাভাসের সময়সীমা ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা।
সরকারি পূর্বাভাস অনুসরণের পরামর্শ
ওয়েদার হাব বাংলাদেশ জানিয়েছে, তাদের পূর্বাভাস স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ এবং এক মিনিটের গড় বাতাসের গতিবেগের মানদণ্ড অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ ও বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ নির্ণয়ে তিন মিনিটের গড় ব্যবহার করে। এ কারণে বিভিন্ন সংস্থার প্রকাশিত বাতাসের গতিবেগের হিসাবে পার্থক্য থাকতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, তীব্রতা ও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন ও সরকারি সতর্কসংকেত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: ওয়েদার হাব বাংলাদেশ






