দেশে আবারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে হাম রোগের সংক্রমণ ও মৃত্যু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গ নিয়ে নয়জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল, আর বাকি ছয়জনের মধ্যে ছিল হামের উপসর্গ। একই সময়ে নতুন করে ৮৭ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে ৬৮ জনের মৃত্যু এবং উপসর্গ নিয়ে আরও ৩৫৬ জনের মৃত্যুর তথ্য অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগের বিস্তার আমাদের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং টিকাদান কার্যক্রমের ঘাটতির দিকটি সামনে এনে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ হলেও সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এটি সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। অথচ এখনো দেশের বহু শিশু নিয়মিত টিকার আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৫১ হাজারের বেশি, যার মধ্যে সাত হাজারেরও বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি সতর্ক সংকেত। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগে রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুহার বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে সরকার ১৫ লাখ এমআর টিকা দেশে আনার উদ্যোগ নিয়েছে, যা ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে শুধু টিকা আনা যথেষ্ট নয়; দ্রুত ও কার্যকরভাবে তা শিশুদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।
হাম প্রতিরোধে এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। শিশুদের সুরক্ষায় সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সাধারণ মানুষ—সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি।






