ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২০৪ জনে দাঁড়িয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান জোরদারের পাশাপাশি নিহতদের দ্রুত সৎকারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানী কাঠমান্ডুতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী এসব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধারকর্মীরা দিনরাত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ১১ হাজার ৯৯৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ মানুষের সঙ্গে এখনো প্রশাসনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করতে তাদের স্বজন ও নিকটাত্মীয়দের অবিলম্বে ডিএনএ নমুনা জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন লোক বাহাদুর ছেত্রী। মহারাজগঞ্জের নেপাল পুলিশ হাসপাতাল অথবা যেকোনো জেলা পুলিশ কার্যালয়ে এসব নমুনা জমা দেওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
দুর্গত এলাকাগুলোতে নেপাল সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ও সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দলও উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে। ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষ উদ্ধারকারী দল ল্যাংটাং, চিলিমে ও আপার ত্রিশূলীর মতো দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় কাদা-পাথর সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এখন পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে বিশ্বের ৩৪টি দেশের প্রায় ৫৯০ জন বিদেশি পর্যটক ও নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্ধারকাজের গতি বাড়াতে সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার।






