ডেস্ক রিপোর্ট, কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাওর থেকে একটি মৃত গাঙ্গেয় শুশুক উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রাণীটিকে বড় মাছ বা ডলফিন মনে করে স্থানীয়রা কেটে অন্তত শতাধিক মানুষের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, তাঁদের কেউ কেউ ওই মাংস রান্না করে খেয়েছেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে অষ্টগ্রামের ইকুরদিয়া ঘাটের কাছে প্রাণীটির সন্ধান পান স্থানীয় জেলেরা। মাছ ধরার পর নাসিরনগর বাজার থেকে ফেরার পথে পানির নিচে অস্বাভাবিক বড় একটি প্রাণী দেখতে পান তাঁরা। নৌকা থামিয়ে পর্যবেক্ষণের পর প্রাণীটিকে মৃত অবস্থায় পান জেলেরা। পরে রশি দিয়ে বেঁধে সেটিকে তীরে নিয়ে আসা হয়।
প্রাণীটি হাওরে পাওয়া গেছে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় করেন। পরে ওজন করে দেখা যায়, প্রাণীটির ওজন প্রায় আড়াই মণ। এটি আসলে কী, তা নিশ্চিত না হয়েই একপর্যায়ে সেটি কেটে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রাণীটি কাটার কাজ শুরু হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর কাটাকাটি শেষ হলে মাংস প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে শতাধিক মানুষের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাঙ্গেয় শুশুক সাধারণত নদী ও নদীর মোহনা এলাকায় বিচরণ করে। পানিদূষণ, আবাসস্থলের পরিবর্তন, নৌযানের আঘাতসহ বিভিন্ন কারণে এসব প্রাণী ঝুঁকিতে রয়েছে। অষ্টগ্রাম হাওরের পানি বর্ষাকালে ধলেশ্বরী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় শুশুকটি নদীপথে সেখানে এসে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাণীটির ছবি দেখে গাঙ্গেয় শুশুক বলেই মনে হয়েছে। এটি মাছ নয়, জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন ছিল। প্রাণীটি কেটে ফেলার কারণে এখন সেই সুযোগ আর নেই।
স্থানীয় জেলেদের মধ্যে এ ধরনের প্রাণী সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতিও ঘটনাটিতে উঠে এসেছে। জেলেরা জানান, তাঁরা আগে কখনো হাওরে এমন প্রাণী দেখেননি এবং এটি কীভাবে সংরক্ষণ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়, সে বিষয়েও তাঁদের ধারণা ছিল না।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী ও হাওরে কোনো অচেনা বা বিরল জলজ প্রাণী পাওয়া গেলে সেটি কাটা বা খাওয়ার পরিবর্তে দ্রুত বন বিভাগ, মৎস্য বিভাগ কিংবা স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো জরুরি। এতে প্রাণীটির প্রজাতি শনাক্তের পাশাপাশি মৃত্যুর কারণও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।






