ফেসবুকে পুলিশ কর্মকর্তার ক্ষোভ!
‘আমার অতি আদরের কলিজার টুকরা নাওয়াল আনসারী চট্টগ্রাম নাসিরাবাদ ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। অদ্য সকাল ৮টায় আমি নিজেই আমার এই ছোট্ট, অতি আদরের মেয়েটিকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে আসি। ক্লাস শেষ করে বেলা আনুমানিক সাড়ে ১টার সময় ট্যাক্সিযোগে স্কুল থেকে ঠিক বাসার মূল ফটকের সামনে আসার পর গাড়ি থেকে নামামাত্রই হঠাৎ বিদ্যুৎচালিত একটি অবৈধ ও নিবন্ধনবিহীন অটোরিকশা দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে এসে আমার অবুঝ মেয়েটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে আমার ছোট্ট মেয়েটি ছিটকে রাস্তায় পড়ে যায়।’
‘এতে আমার মেয়ে দুই হাত, মাথা, ঠোঁট, পুরো মুখমণ্ডলসহ কপালে গুরুতর কাটা, রক্তাক্ত ও থেতলানো জখমপ্রাপ্ত হয়। আমার মেয়েটিকে সঙ্গে সঙ্গে এলাকাবাসীর সহায়তায় রয়েল হাসপাতাল ও মেট্রোপলিটন হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।’
‘উল্লেখ্য, আমার এই মাসুম বাচ্চাটি তো কোনো অপরাধ করেনি। আমার এই বাচ্চাটি যদি নিজের বাসার নিচেও নিরাপদ না থাকে, তাহলে আমার অথবা আমাদের এই রকম মাসুম বাচ্চারা অন্য কোথাও নিরাপদ, এটা আমার মনে হয় না ‘
‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নীতিনির্ধারণী ফোরামের সম্মানিত প্রত্যেক সদস্যের কাছে আমার প্রশ্ন, বাংলাদেশ নামক এই পুরো দেশটাই কি তাহলে অবৈধ অটোরিকশা চালকদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে?’
‘দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের বিধান ও নিয়ম থাকলেও প্রশিক্ষণ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন এই অবৈধ অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে কি দেশের প্রচলিত কোনো আইনই প্রযোজ্য নয়? এই অবৈধ অটোরিকশার মাধ্যমে প্রশিক্ষণবিহীন কথিত রিকশাচালকেরা আর কত মায়ের বুক খালি করলে এবং আর কত অবুঝ শিশুর রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হলে তাদের ওপরও দেশের প্রচলিত আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত আসবে?’
‘আমি এসব অবৈধ অটোরিকশা ও রিকশাচালকদের বিষয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় সড়ক ও যোগাযোগমন্ত্রী এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মাননীয় মেয়রের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি। অন্যথায়, এই অটোরিকশাচালকেরাই একদিন এই পুরো দেশটাকেই গিলে খাবে।’
‘সরকারি চাকরি করে নিজের অবুঝ সন্তানদের নিরাপত্তা যেখানে আমরা নিশ্চিত করতে পারি না, সেখানে আমরা কীভাবে অন্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব, এটাই আমার প্রশ্ন।’
আনসারুল করিম
পুলিশ কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম
সূত্র: Abu Taher Ripon (ফেসবুক প্রোফাইল থেকে সংগৃহীত)






