নোয়াখালীতে কচ্ছপ পাচার ও অবৈধ বেচাকেনার বিরুদ্ধে গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে কাজ করছে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংগঠন Animal Rights BD-64। সংগঠনটির দাবি, কচ্ছপ পাচার ও অবৈধ বেচাকেনার বিরুদ্ধে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে বাংলাদেশ বন বিভাগের সদস্যরা তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছেন। একাধিক অভিযান ও বিপুল পরিমাণ কচ্ছপ উদ্ধারের পরও সংশ্লিষ্ট চক্রের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

সংগঠনটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কচ্ছপ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শুরু থেকেই সতর্ক করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী প্রকৃতির সম্পদ এবং এগুলো ধরে এনে বিক্রি বা পাচার করা আইনবিরোধী, এ বিষয়ে তাদের বারবার সতর্ক করা হলেও একই ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির।
শুরু যেভাবে
Animal Rights BD-64-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি সকালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী রেলস্টেশন থেকে প্রায় ২৫০ কেজি কচ্ছপ নিয়ে যাওয়ার সময় কথিত কচ্ছপ সিন্ডিকেটের সদস্য ব্রিরেন বাবু আটক হন।
এরপর ১২ আগস্ট নোয়াখালীর চৌমুহনী মণ্ডলপাড়ায় অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই টন কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। ওই অভিযানে কথিত কচ্ছপ সিন্ডিকেটের লিডার হিসেবে পরিচিত কনক বাবু প্রথমবার আটক হন বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।
বিপুল পরিমাণ কচ্ছপ উদ্ধারের পর অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হবে বলে আশা করা হলেও পরবর্তী সময়ে আবারও একই ধরনের তৎপরতা দেখা যায়।
সংগঠনটির দাবি, ২০২৫ সালের ৯ ও ১০ নভেম্বর মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি পৃথক স্থানে কচ্ছপ নিয়ে আবারও অভিযান পরিচালনা করতে হয়।

একের পর এক অভিযান
২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকায় প্রায় ২৮০ কেজি কচ্ছপ পাচারের সময় ভাসুদেব নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, ভাসুদেব ‘কচ্ছপ ভাইস্সা’ নামে পরিচিত এবং বরিশাল ও খুলনার বড় একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়।
এরপরও কচ্ছপের অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হয়নি বলে দাবি Animal Rights BD-64-এর। ২৪ ফেব্রুয়ারি ও ১৫ জুলাই ২০২৬ কনক বাবু আবারও কচ্ছপ ব্যবসার অভিযোগে পরিচালিত অভিযানের আওতায় আসেন। সর্বশেষ ঘটনায় প্রায় ৩৫০ কেজি কচ্ছপসহ তাকে আটক করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সহায়তায় বন বিভাগের হেফাজত থেকে তার মুক্তি পাওয়ার অভিযোগও ওঠে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বড় নেটওয়ার্কের আশঙ্কা
Animal Rights BD-64-এর দাবি, একের পর এক অভিযান, বিপুল পরিমাণ কচ্ছপ উদ্ধার এবং বারবার সতর্ক করার পরও একই ধরনের ব্যবসা অব্যাহত থাকায় এর পেছনে বড় একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে এসব অভিযান বা কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং পাচার ও অবৈধ বেচাকেনা বন্ধ করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
সংগঠনটির ভাষ্য, প্রতিটি অভিযানে বন বিভাগের সদস্যরা সহযোগিতা করেছেন। Animal Rights BD-64 তাদের নিজস্ব অবস্থান থেকে তথ্য সংগ্রহ, উদ্ধার কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে।
সংগঠনটি বলছে, কচ্ছপ কোনো ব্যবসার পণ্য নয় এবং কোনো সিন্ডিকেটের সম্পদও নয়। এগুলো প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই কচ্ছপ ধরা, মজুত, বিক্রি কিংবা পাচারের সঙ্গে জড়িতদের এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
Animal Rights BD-64-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং কচ্ছপ পাচার ও অবৈধ বেচাকেনার বিরুদ্ধেও তাদের অভিযান ও কার্যক্রম চলবে।






