বরগুনার তালতলী উপকূলে ভেসে এসেছে প্রায় ৩২ ফুট দীর্ঘ একটি মৃত বেলিন তিমি। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বড়বগি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কাছে আন্দারমানিক নদীর তীরে স্থানীয়রা তিমিটির মরদেহ দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়লে সেটি দেখতে সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) সাধারণ সম্পাদক মো. আরাফাত রহমান বলেন, বড়বগি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের লাগোয়া আন্দারমানিক নদীতে তিমিটি ভেসে এসেছে। তিমিটির দেহের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে এটির মৃত্যু হয়েছে। পচনের কারণে মরদেহটি উল্টে গেছে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩২ ফুট।
পরিবেশকর্মী আরিফুর রহমান বলেন, সকালে স্থানীয়রা উপকূলীয় মোহনায় তিমিটির মরদেহ দেখতে পান। পরে বেলা ১১টার দিকে সেটি আবার গভীর সমুদ্রের দিকে ভেসে যেতে থাকে। বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হলে পরে বন বিভাগের কর্মীরা তিমিটির মরদেহ উদ্ধারে কাজ শুরু করেন।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বন বিভাগের তালতলী রেঞ্জ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, কলাপাড়া ও তালতলীর সীমান্তবর্তী আন্দারমানিক নদীর দিকে মৃত তিমিটি ভেসে যাচ্ছিল। সেটিকে নিশানবাড়িয়ার দিকে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে। মাটিচাপা দেওয়ার আগে তিমিটির প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও নমুনা সংরক্ষণ করা হবে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মো. রাজীব সরকার তিমিটির ছবি দেখে বলেন, এটি একটি বেলিন তিমি (Baleen whale) বলে মনে হচ্ছে। এ ধরনের তিমির মুখে দাঁতের পরিবর্তে বিশেষ ধরনের বেলিন প্লেট থাকে। এসব প্লেটের সাহায্যে সমুদ্রের পানি ছেঁকে ছোট মাছ, ক্রিলসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণী খাবার হিসেবে গ্রহণ করে।
অধ্যাপক রাজীব সরকার বলেন, বঙ্গোপসাগরে এ ধরনের বড় আকৃতির তিমির উপস্থিতি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু ছবি দেখে তিমিটির মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। মৃত্যুর কারণ জানতে তিমির দেহ পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় নমুনা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিমিটির মরদেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় নমুনা সংরক্ষণ করা হবে। পরে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মরদেহটি মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
সূত্র: বাংলা স্ট্রিম






