মেঘালয় থেকে আসা প্রায় ১৩০ থেকে ১৩৫টি বন্যহাতি সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কারণে নিজ দেশে ফিরতে পারছে না বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। হাতিগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে আগের প্রটোকল অনুসারে ভারতের সঙ্গে শিগগিরই সংলাপ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসন ও বন্যহাতি সংরক্ষণবিষয়ক এক মতবিনিময়সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কারণে মেঘালয় থেকে আসা হাতিগুলো শেরপুরের গারো পাহাড়ে আটকা পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে সীমান্তের গেট খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে। একই সঙ্গে শেরপুরের বনভূমিকে বন্যহাতির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শেরপুরের গারো পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য ও বন্যহাতিসহ প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে পর্যটনের কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষ ও হাতির মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনের সুযোগ তৈরি হবে।
শেরপুর জেলা প্রশাসন ও ময়মনসিংহ বন বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার হাতি অধ্যুষিত এলাকার সংসদ সদস্য, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী এবং হাতি সংরক্ষণে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।
সভায় বক্তব্য দেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী, বন সংরক্ষক (বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল) মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক এ এস এম জহির উদ্দিন আকন, ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম ও পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম।
বনাঞ্চলে ১৩০ থেকে ১৪০টি হাতির বিচরণ
সভায় স্বাগত বক্তব্যে ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম বলেন, শেরপুর জেলার বনাঞ্চলে ১৩০ থেকে ১৪০টি হাতি বিচরণ করছে। এসব হাতির চলাচল ও খাবার সংগ্রহকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলে আসছে।
হাতির চলাচল পর্যবেক্ষণ ও মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব মোকাবিলায় প্রতি দলে ১০ জন করে ৫৩টি ইআরটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ৪৫টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
‘বন্যহাতি আপদ নয়, সম্পদ’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী বলেন, ‘বন্যহাতি আপদ নয়, এটা আমাদের সম্পদ। বন্যহাতি সুরক্ষা এবং হাতি মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে হাতি চলাচলের জন্য করিডর সংরক্ষণ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, এ জন্য আন্তদেশীয় সংলাপ শুরু করতে হবে। হাতিকে কেন্দ্র করে পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে মানুষ ও হাতির দ্বন্দ্ব কমে আসবে।
প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, শেরপুরে যে পরিমাণ বনাঞ্চল রয়েছে, তার তুলনায় হাতির খাবারের জোগান ও বিচরণস্থল কম। এসব হাতি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে এসেছে। কিন্তু এখন তাদের ওই দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে মানুষ ও হাতির মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত বাড়ছে।
তিনি বলেন, হাতির যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মানুষ ও হাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ জনকে ক্ষতিপূরণ
সভায় বন্যহাতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ জনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১০টি ইআরটি দলের সদস্যদের মধ্যে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
সভা শেষে মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে মধুটিলা ইকোপার্ক পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। পরে ইআরটি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার পাহাড়ি জনপদে বন্যহাতির বিচরণক্ষেত্র পরিদর্শন করেন তিনি।
এরপর ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে একই বিষয়ে আরেকটি মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেলসহ বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।






