বগুড়ায় যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে খাঁচাবন্দি ১০৩টি টিয়া পাখি উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে পাখিগুলো অবমুক্ত করা হয়।
পুলিশ ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাচারের উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক টিয়া পাখি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাত ১১টার দিকে শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। এ সময় নওগাঁ থেকে ঢাকাগামী আল বারাকা ট্রাভেলস নামে একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে বাসটির সাইড বক্সের ভেতর থেকে ১০টি প্লাস্টিকের খাঁচা উদ্ধার করা হয়। খাঁচাগুলোতে গাদাগাদি করে রাখা ছিল ১০৩টি টিয়া পাখি। তবে পাখিগুলো বহনকারী ব্যক্তিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
বগুড়া বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা দুলাল কুমার সাহা জানান, উদ্ধার হওয়া পাখিগুলোর মধ্যে মেথ টিয়া ও লাল মাথা টিয়া প্রজাতির পুরুষ ও স্ত্রী পাখি রয়েছে। এসব টিয়া বাংলাদেশ ও ভারতের পাহাড়ি এলাকার বুনো পাখি হিসেবে পরিচিত।
তিনি বলেন, খাদ্যের সন্ধানে বিশেষ করে ভুট্টা ও মরিচের ক্ষেতে এসব পাখি চলে আসে। এ সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি পাখিগুলো ধরে বেচাকেনা ও পাচারের চেষ্টা করে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উদ্ধার হওয়া টিয়াগুলো অবমুক্ত করা হয়েছে।
বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বুনো টিয়া ধরা, বিক্রি ও বেচাকেনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বাসটি জব্দ করার আগেই পাখি বহনকারী ব্যক্তি পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বাসচালক ও সুপারভাইজারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোন নম্বর পাওয়া গেছে। ওই নম্বরের সূত্র ধরে পাখি পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






