সিনেমার নায়ক নীল রঙের টিয়া ‘ব্লু’ বাস্তবে কী বিলুপ্ত হয়ে গেছে?

ডেস্ক রিপোর্ট:

অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘রিও’-এর নীল রঙের টিয়া ‘ব্লু’ ও ‘জুয়েল’ বিশ্বজুড়ে দর্শকদের পরিচিত করে তুলেছিল এক অসাধারণ পাখির সঙ্গে। সেই পাখি স্পিক্স ম্যাকাও (Cyanopsitta spixii)। সিনেমার পর্দায় যার উপস্থিতি আনন্দের, বাস্তব প্রকৃতিতে সেই পাখির গল্পটি অনেক বেশি বেদনাদায়ক।

স্পিক্স ম্যাকাও বর্তমানে বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত (Extinct in the Wild)। অর্থাৎ ব্রাজিলের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে এই পাখির কোনো স্বাভাবিক বন্য সংখ্যা টিকে নেই। তবে প্রজাতিটি পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি; বিভিন্ন সংরক্ষণকেন্দ্র ও বন্দিদশায় থাকা পাখিদের মাধ্যমে এর অস্তিত্ব এখনো ধরে রাখা হয়েছে।

ব্রাজিলের একটি সীমিত অঞ্চলে একসময় স্পিক্স ম্যাকাওয়ের বিচরণ ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাদের আবাসস্থল ধ্বংস, বন উজাড় এবং পোষা পাখির বাণিজ্যের জন্য অবৈধ আহরণ প্রজাতিটির ওপর ভয়াবহ চাপ তৈরি করে। দীর্ঘদিনের এই সংকটের পর বন্য পরিবেশে সর্বশেষ নিশ্চিত পাখিটির দেখা মেলে ২০০০ সালে।

শুধু আবাসস্থল হারানো নয়, খাঁচায় পাখি রাখার বাণিজ্যও স্পিক্স ম্যাকাওয়ের পতনের অন্যতম বড় কারণ হয়ে ওঠে। IUCN-এর তথ্যেও এই প্রজাতির মারাত্মক পতনের সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত ও ব্যাপক cage-bird trade-এর সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

প্রকৃতিতে ফেরানোর চেষ্টা

বন্য পরিবেশ থেকে হারিয়ে গেলেও সংরক্ষণবিদরা হাল ছাড়েননি। বন্দিদশায় থাকা স্পিক্স ম্যাকাওয়ের প্রজনন, সংখ্যা বৃদ্ধি এবং উপযুক্ত আবাসস্থল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে প্রজাতিটিকে আবার ব্রাজিলের প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এটি সহজ কোনো কাজ নয়। কারণ শুধু পাখির সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; তাদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল, পর্যাপ্ত খাদ্য, উপযুক্ত পরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। IUCN-এর সংরক্ষণ কাঠামোতেও পুনঃঅবমুক্তকরণ ও আবাসস্থল পুনরুদ্ধারকে প্রজাতির পুনরুদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

স্পিক্স ম্যাকাওয়ের গল্প তাই শুধু একটি পাখির গল্প নয়। এটি দেখায়, একটি প্রজাতি হারিয়ে যেতে কতগুলো মানবসৃষ্ট চাপ একসঙ্গে কাজ করতে পারে। একই সঙ্গে এটিও মনে করিয়ে দেয়, যথাসময়ে সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়া গেলে হারিয়ে যাওয়া বন্যপ্রাণীকে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনাও তৈরি হয়।

‘রিও’র ব্লু তাই শুধু সিনেমার চরিত্র নয়, সে আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। প্রকৃতি হারালে তার সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারে আমাদের পরিচিত অসংখ্য প্রাণও।

আরও পড়ুন

প্রকৃতির নীরব পরিচ্ছন্নতাকর্মী: কাকেরা কি চলে গেছে, নাকি হারিয়েছি আমরাই?

একসময় ভোরের শহর মানেই ছিল কাকের ডাক। ছাদের কার্নিশে, বৈদ্যুতিক তারে কিংবা বাড়ির পাশের ডাস্টবিনে দেখা মিলত তাদের। গ্রীষ্মের অলস দুপুরেও জানালার বাইরে থেকে...
জাতীয়
0
minutes

বন্দিদশা থেকে নতুন ঠিকানায় বেলুগা তিমি, তবু থামেনি মৃত্যুর মিছিল

কানাডার মেরিনল্যান্ড সামুদ্রিক পার্কের অগভীর পানিতে হাঁটু গেড়ে বসেছিলেন তত্ত্বাবধায়কেরা। তাঁদের কাছে একে একে এগিয়ে যাচ্ছিল বেলুগা তিমি টোফিনো। তাঁরা আদর করে হাত বুলিয়ে...
বন্যপ্রাণী ও সংরক্ষণ
0
minutes

জুড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আরও এক বানরের মৃত্যু, বিদ্যুৎ বিভাগের পদক্ষেপ দাবি

খোরশেদ আলম, জুড়ী (মৌলভীবাজার) মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আরও একটি লজ্জাবতী বানরের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে উপজেলার কচুরগুল গ্রামে আব্দুস সুবহান মিয়ার...
বন্যপ্রাণী ও সংরক্ষণ
0
minutes

আসিয়ান অঞ্চলে ধোঁয়াশার সর্বোচ্চ সতর্কতা, দূষণে শীর্ষে সিঙ্গাপুর

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আসিয়ান অঞ্চলে ধোঁয়াশার সতর্কতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। টানা দুই দিন বা তার বেশি সময় ধরে বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ঘন...
দূষণ ও দখল
0
minutes
spot_imgspot_img