সামান্য ছোঁয়াতেই যে গাছের পাতা গুটিয়ে যায়, তার নাম লজ্জাবতী। পাতাগুলো এমনভাবে ভাঁজ হয়ে যায় যে মনে হয়, কেউ যেন লজ্জায় মুখ লুকিয়েছে। মানুষের এই কল্পনা থেকেই হয়তো তার এমন নাম।
কিন্তু লজ্জাবতী আসলে লজ্জা পায় না। পাতাগুলো গুটিয়ে ফেলা তার বেঁচে থাকার একটি চমৎকার কৌশল।
লজ্জাবতী শক্ত কাণ্ডের বড় কোনো গাছ নয়। নরম ডাঁটি আর কোমল পাতায় গড়ে ওঠা এই উদ্ভিদটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বাইরের কোনো কিছুর স্পর্শ পেলেই পাতায় দ্রুত একধরনের শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। পাতার বিশেষ কোষে পানির চাপের পরিবর্তন ঘটে এবং কোষের ভেতরের পানি ও অন্যান্য তরল সরে যেতে থাকে। ফলে পাতাগুলো ধীরে ধীরে গুটিয়ে যায়।
প্রকৃতির ভাষায় এটি কোনো লজ্জা নয়, সম্ভাব্য বিপদের মুহূর্তে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা। কোনো প্রাণী বা অন্য কোনো বাহ্যিক প্রভাব পাতাকে স্পর্শ করলে হঠাৎ গুটিয়ে যাওয়ার এই প্রতিক্রিয়া উদ্ভিদটির আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেই দেখা হয়।
শুধু স্পর্শেই নয়, আলো-অন্ধকারের সঙ্গেও লজ্জাবতীর পাতার আচরণ বদলে যায়। অন্ধকারে পাতাগুলো গুটিয়ে থাকে, আর দিনের আলোয় সেগুলো আবার মেলে ধরে সতেজ হয়ে ওঠে।
সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হলো, বিপদের আশঙ্কা কেটে গেলে লজ্জাবতীও আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর গুটিয়ে থাকা পাতাগুলো ধীরে ধীরে খুলে যায়, দুই পাশে ছড়িয়ে পড়ে। যেন কিছুই ঘটেনি, আবার মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকে ছোট্ট এই উদ্ভিদটি।
তাই লজ্জাবতীর পাতায় যে ‘লজ্জা’ দেখি, সেটি আসলে প্রকৃতির এক অসাধারণ আত্মরক্ষার গল্প।






