ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে ইনডোর প্ল্যান্ট হিসেবে মানি প্ল্যান্টের জনপ্রিয়তা বেশ। বসার ঘরের কোণ, পড়ার টেবিল কিংবা ব্যালকনিতে কম যত্নেই বেড়ে ওঠে এই গাছ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন এর নাম ‘মানি প্ল্যান্ট’? সত্যিই কি বাড়িতে এই গাছ রাখলে অর্থ-সম্পদ বাড়ে, নাকি নামটির পেছনে রয়েছে অন্য কোনো গল্প?
মানি প্ল্যান্টের বৈজ্ঞানিক নাম এপিপ্রেমনাম অরিয়াম। বিশ্বজুড়ে এটি ‘মানি প্ল্যান্ট’ নামেই পরিচিত। গাছটির নামের সঙ্গে ইতিহাস, লোকবিশ্বাস ও এর কিছু বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রচলিত আছে।
নামের পেছনে চীনা লোককথা
মানি প্ল্যান্টের নামকরণ নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত একটি গল্প চীনা লোককথার সঙ্গে যুক্ত। কথিত আছে, এক দরিদ্র ব্যক্তি আর্থিক উন্নতির জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছিলেন। একসময় তিনি বনে একটি বিশেষ ধরনের গাছ খুঁজে পান। গাছটি বাড়িতে এনে যত্ন নেওয়ার পর দ্রুত বেড়ে উঠতে থাকে।
পরে তিনি গাছটির চারা বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতে শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে তাঁর আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়। এই গল্প থেকেই চীনা সংস্কৃতিতে গাছটি সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পায় বলে প্রচলিত রয়েছে।
ফেংশুই ও বাস্তুতে কেন শুভ?
চীনা ফেংশুইয়ের বিশ্বাসে মানি প্ল্যান্টকে সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এর গোলাকার ও মসৃণ পাতা অনেকটা মুদ্রার মতো দেখতে হওয়ায় গাছটির সঙ্গে অর্থ ও সৌভাগ্যের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হয়।
বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মানি প্ল্যান্ট রাখলে ইতিবাচক শক্তি ও আর্থিক সমৃদ্ধি বাড়ে, এমন বিশ্বাসও রয়েছে। ভারতীয় বাস্তুশাস্ত্রেও গাছটিকে শুভ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এটি ঘরের নেতিবাচক শক্তি দূর করে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় রাখতে সাহায্য করে বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে।
তবে এসব ধারণার পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। মানি প্ল্যান্ট ঘরে রাখলে অর্থ-সম্পদ বাড়ে, এমন কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও পাওয়া যায়নি।
কম যত্নেই বেড়ে ওঠে
মানি প্ল্যান্ট জনপ্রিয় হওয়ার বাস্তব কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে এর দ্রুত বৃদ্ধি এবং সহজে বংশবিস্তার করার ক্ষমতা। অল্প আলো ও সীমিত পরিচর্যাতেও এটি বেশ ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
তাই ‘মানি প্ল্যান্ট’ নামটি অর্থ-সম্পদ বৃদ্ধির নিশ্চয়তা না দিলেও ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে এবং সবুজের ছোঁয়া আনতে এই গাছের জনপ্রিয়তা অস্বীকার করার উপায় নেই।






