নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার তিরাইল গ্রামে একটি পরিযায়ী শামুকখোল পাখি জবাই করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ইমরান হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বলে জানা গেছে।
ইমরান হোসেন ওই গ্রামের মৃত ময়েজ মাস্টারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামুকখোল পাখিটি শিকার করে জবাই করে হত্যা করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তবে স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও পাখিপ্রেমীরা শুধু অর্থদণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, বন্যপ্রাণী হত্যার ঘটনায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে নিয়মিত মামলা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এতে ভবিষ্যতে পাখি শিকার ও বন্যপ্রাণী হত্যার প্রবণতা কমবে বলে মনে করেন তারা।
বর্তমানে দেশে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬ কার্যকর রয়েছে। নতুন আইনে বন্যপ্রাণী হত্যা বা শিকারকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আইনের ধারা ২-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, ‘শিকার’-এর মধ্যে বন্যপ্রাণী হত্যা, ধরা, বিষ প্রয়োগ বা এ ধরনের উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আইনের ৪১ ও ৪২ ধারায় তফসিলভুক্ত বন্যপ্রাণী শিকারের জন্য বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোন ধারা প্রযোজ্য হবে, তা পাখিটির সংশ্লিষ্ট তফসিল এবং ঘটনার প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।
এদিকে, পাখি হত্যা বন্ধে শুধু জরিমানা নয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বন্যপ্রাণী আইনে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, আইন অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে পাখি শিকার ও বন্যপ্রাণী হত্যার প্রবণতা কমাতে জনসচেতনতা বাড়বে।






