সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ। সাধারণত এ সময় ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শীতের অনুভূতি পাওয়ার কথা নয়। অথচ গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) শহরটির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
এই তাপমাত্রা গত ২৫ বছরের মধ্যে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে ২০০১ সালের পর সেপ্টেম্বর মাসে এটিই দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
হঠাৎ এমন ঠান্ডা আবহাওয়া অনেকের মনেই প্রশ্ন তৈরি করেছে, তবে কি এবার শীত একটু আগেই চলে আসছে? এর পেছনে কি এল নিনোর কোনো প্রভাব রয়েছে?
আবহাওয়াবিদদের মতে, দুটি প্রশ্নের উত্তরই আপাতত ‘না’। দিল্লির এই সাময়িক ঠান্ডার সঙ্গে শীতের আগমন কিংবা এল নিনোর সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
বৃষ্টিই নামিয়েছে তাপমাত্রা
আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা একটি দীর্ঘস্থায়ী গভীর নিম্নচাপ।
মৌসুমী বায়ু বিদায়ের সময় এই নিম্নচাপের প্রভাবে ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, দিল্লি ও রাজস্থানসহ ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত হয়েছে।
একটানা বৃষ্টির সঙ্গে আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা। ফলে দিনের বেলায় সূর্যের তাপ মাটিতে ঠিকমতো পৌঁছাতে পারেনি। এতে দিনের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় কম ছিল।
অন্যদিকে, বাতাসে আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং রাতে মেঘলা আবহাওয়ার প্রভাবে দিল্লিতে রাতের তাপমাত্রাও নেমে যায়। ফলে সেপ্টেম্বরের শেষদিকে রাজধানীর বাসিন্দারা হঠাৎই কিছুটা শীতের অনুভূতি পেয়েছেন।
এল নিনোর প্রভাব নয়
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তনের সঙ্গে এল নিনোর নাম প্রায়ই আলোচনায় আসে। প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত এই জলবায়ুগত ঘটনা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে দিল্লির এবারের সাময়িক ঠান্ডাকে এল নিনোর প্রভাবে শীতের আগাম আগমন হিসেবে দেখার কারণ নেই।
এটি মূলত স্থানীয় ও আঞ্চলিক একটি আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাব। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা নিম্নচাপ, ব্যাপক বৃষ্টিপাত, মেঘলা আকাশ ও বাতাসের আর্দ্রতার সম্মিলিত প্রভাবেই দিল্লিতে তাপমাত্রা এতটা কমেছে।
কত দিন থাকবে এই ঠান্ডা?
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ঠান্ডা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উত্তর ভারতে শুষ্ক পশ্চিমা বাতাসের প্রভাব বাড়তে শুরু করবে। ফলে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর থেকে দিল্লি, পাঞ্জাব ও উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় আকাশ পরিষ্কার হয়ে রোদ উঠতে পারে।
রোদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দিনের তাপমাত্রাও আবার বাড়বে। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দিল্লিতে যে শীতল অনুভূতি তৈরি হয়েছে, সেটি স্থায়ী কোনো আবহাওয়াগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়।
তাহলে কি শীত দেরিতে আসবে?
এই একটি ঘটনা দেখে এবারের শীত কবে শুরু হবে, তা নির্ধারণ করা যায় না। একটি নির্দিষ্ট নিম্নচাপের কারণে কয়েক দিন তাপমাত্রা কমে যাওয়া আর মৌসুমের সামগ্রিক পরিবর্তন, দুটি ভিন্ন বিষয়।
দিল্লির এবারের ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তাই শীতের আগাম বার্তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি বর্ষা বিদায়ের সময় তৈরি হওয়া একটি সাময়িক আবহাওয়া ব্যবস্থার ফল।
প্রকৃতির আবহাওয়ার আচরণ অনেক সময়ই এমন চমক তৈরি করে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে যখন দিল্লিতে শীতের আমেজ, তখন কয়েক দিনের মধ্যেই সেই অনুভূতি মিলিয়ে গিয়ে আবার স্বাভাবিক উষ্ণতা ফিরে আসতে পারে।
অর্থাৎ, দিল্লির এই হঠাৎ ঠান্ডা শীতের আগমন নয়; বরং বৃষ্টি ও নিম্নচাপের সাময়িক প্রভাব।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে






