নেপালে আবারো হড়পা বানের আঘাত। দেশটির গোর্খা জেলার উত্তরে বুড়ি গণ্ডকী নদীতে হঠাৎ পানি বেড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও দুটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রথম দিকে হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও পরে চারজন নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরের দিকে বুড়ি গণ্ডকী নদীতে হড়পা বান আসে। এতে চুমুব্রি গ্রামীণ পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের সল্লেরি, পাইয়ুকা ও জগৎ এলাকার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভেসে যায় দুটি ঝুলন্ত সেতুও। ফলে ওই এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।
চুমুব্রি গ্রামীণ পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান রামকুমার গুরুং জানান, ভোরে হঠাৎ বন্যা দেখা দেওয়ায় বাসিন্দারা ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করার সুযোগ পাননি। পানির প্রবল স্রোতের শব্দ শুনে তাঁরা প্রাণ বাঁচাতে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যান।
গোর্খার মুখ্য জেলা কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্রকুমার মিশ্র বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সিউরিবাসের ওপরের দিকে ভূমিধস হয়েছিল। তবে বুড়ি গণ্ডকী নদীতে হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।
নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানান, নদীর পানির স্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকায় উদ্ধারকাজ, ত্রাণ বিতরণ এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে।
নদীর গর্জন শুনে পালান বাসিন্দারা
স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ভোর ৪টার দিকে বুড়ি গণ্ডকী নদী থেকে বিকট গর্জনের শব্দ শুনতে পান তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। এরপর তাঁরা দ্রুত বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। স্থানীয় হোটেলগুলোতে থাকা পর্যটকেরাও এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেন।
লোকপা এলাকার বাসিন্দা শেরাপ গুরুং বলেন, ‘অন্ধকারে আমরা শুধু শব্দ শুনেছি। বুঝতে পারছিলাম না ঠিক কী হয়েছে। তবে আমরা সকলে এক মুহূর্ত বাড়িতে থাকা নিরাপদ মনে করিনি। ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হল।’
তিনি জানান, বন্যার পর থেকে চারজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের সন্ধানে গ্রামবাসীরা তল্লাশি চালাচ্ছেন। তবে এখনো তাঁদের কোনো খোঁজ মেলেনি।
এখনো বাড়ছে-কমছে নদীর পানি
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রোববার সকালেও বুড়ি গণ্ডকী নদীর পানির স্তর ওঠানামা করছিল। কখনো কখনো তা বিপৎসীমা অতিক্রম করছিল। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও বলা হয়েছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আনন্দবাজার






