সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে বাস করে তিমি

ব্রাইডস হোয়েল Bryde’s whale
এই প্রজাতির তিমি বিশ্বের নানান সাগরসহ বাংলাদেশের সমুদ্র সীমা ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে’ দেখা যায়।

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড হচ্ছে একটি ১৪ কিলোমিটার ব্যাপী বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রের গীরিখাত। প্রাণ সম্পদের গুরুত্ব বুঝে ২০১৪ সালে ২৭ অক্টোবর এই এলাকাকে মেরিন সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করে গেজেট করা হয় এবং বনবিভাগের অধীন। অন্যতম কারণ সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে বাস করে তিমি, ডলফিনসহ নানান জলজ প্রাণ।

এদিকে হিসেব বলছে ২০১৮ সালে মে মাসে কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসে মৃত বড় আকারের একটি ব্রাইডস হোয়েল। এরপর গতবছর ২০২০ জানুয়ারীতে সেন্টমার্টিন উপকূল ঘেঁষে সাগরে ভাসতে দেখা যায় আরও একটি মৃত ব্রাইডস হোয়েল। তারপর ৬ মাস না পেরুতে জুন মাসের মাঝামাঝিতে টেকনাফে আরও একটি ব্রাইডস হোয়েল ভেসে আসে। এই বছর আজ ৯ এপ্র্রিল ২০২১ দরিয়ানগর কক্সবাজারে ভেসে এলো মৃত অরেকটি ব্রাইডস। একদিন না হতে আবারো ১০ এপ্রিল একটি মৃত তিমি এসেছে ঠিক একই জায়গা দরিয়ানগর সৈকতে।

এইসব মৃত তিমি কোথায় থেকে আসছে নাকি সোয়াচ থেকে মরে ভেসে আসছে অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। বনবিভাগের তথাকথিত মনগড়া কোন পোস্টমর্টেম ও তদন্ত প্রতিবেদন দিলে হবেনা। এইসব প্রাণী হত্যার ক্ষেত্রে প্রায় দেখা যায় বা তদন্তে লেখা থাকে হার্ট এ্যাটাক, হিট ষ্ট্রোক, বয়স্ক, বার্ধক্য জনিত রোগসহ আরও কিছু। এতো তালবাহানা না করে জেলেদের জালে অথবা কিভাবে একের পর এক প্রাণীগুলো মারা যায় তা খুঁজে বের করতে হবে।

বছর তিনেক আগে গবেষণার কাজের সঙ্গী হয়ে সোয়াচে যেতে হয়েছিল। সেখানে দেখা গেছে গুলিস্থানের হকাররা যেভাবে যত্রতত্র দোকান নিয়ে বসেন তুলনা করলে সোয়াচে মাছ ধরতে তেমনি দোকান বসে। ছোট একটি জায়গা যার পরিধি ১৪ কিমি অথচ সেখানে ভীড় করছে শতশত কর্মাশিয়াল ও উডেন বোট। দিনরাত চলে ফিশিং।

এদিকে সেই সোয়াচে জায়গা জুড়ে রয়েছে ব্রাইডস হোয়েল বা তিমি ও বড় বড় ডলফিনে ঝাঁক। আমি নিজের চোখে সোয়াচে দেখেছি বাচ্চাসহ একটি বড় তিমি। দিনরাত যদি ফিশিং হয় তাহলে সেখানে বাস করা তিমি, ডলফিন, কাছিমসহ নানান জলজ প্রাণ কিভাবে থাকবে? অথচ সংরক্ষিত এলাকা বলতে আমরা যা বুঝি তার ০.১ পারসেন্ট কোন নজরদারি রয়েছে কি ? সংরক্ষিত এলাকাতে তো মাছ শিকারে প্রবেশ করার তো সুযোগ নেই। তাহলে ব্ল ইকনোমি ও এসডিজি গোল-১৪ কিভাবে হয়।

শুধু তাই নয় কাঠের বোটের ৬০ ফুট লম্বা আর কর্মাশিয়াল ফিশিং বোটে প্রায় ২০০ ফুট লম্বা নানান আকৃতির জাল ফেলা হয় সাগরগর্ভে। সেই জাল যে শুধু এদেশের তা নয় বরং সুযোগে যুগ যুগ ধরে অন্যদেশের জেলেরা জাল নিয়ে সোয়াচে মাছ ধরে চলেছে দিনের পর দিন। যদিও নৌবাহিনী কোস্টগার্ড নজরদারী করে কিন্তু কতটুকু করা সম্ভব!

আরও পড়ুন

চাষে লাভ, প্রকৃতিতে বিপদ? ভিয়েতনামি শোল নিয়ে নতুন উদ্বেগ

ডেস্ক রিপোর্ট দেশের মৎস্য খাতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে ভিয়েতনাম থেকে আনা শোলের জাত। দ্রুত বৃদ্ধি, তুলনামূলক বড় আকার এবং বাণিজ্যিকভাবে ভালো ফলনের কারণে চাষিদের...
কৃষি, কৃষক ও নিরাপদ খাবার
0
minutes

খাল পুনঃখননে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

ড. মো. মিজানুর রহমান বাংলাদেশকে বহুদিন ধরে নদী ও খালের দেশ বলা হয়। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকার এই ভূখণ্ডে শত শত নদী, শাখা নদী এবং হাজার হাজার...
জলসম্পদ
0
minutes

ভূপরিস্থ ও উপকূলীয় জলসম্পদে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও সংকট

বাংলাদেশ এশিয়ার কয়েকটি বৃহৎ নদ-নদীর মিলনভূমি। ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা ও মেঘনা নদী বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। এই নদীগুলোর অববাহিকা দক্ষিণ এশিয়ার...
জলসম্পদ
0
minutes

সুনীল অর্থনীতি: বাংলাদেশ কতদূর এগোলো

সুনীল অর্থনীতি বা ব্লু-ইকোনমি হচ্ছে সমুদ্র সম্পদনির্ভর অর্থনীতি।  সাগরের জলরাশি ও এর তলদেশের বিশাল সম্পদকে কাজে লাগানোর অর্থনীতি। যার অর্থ হল, সমুদ্র থেকে যা–ই...
জলসম্পদ
0
minutes
spot_imgspot_img