বাবা অঞ্জু বাসে ঘুমাইস না। ফেরিতে গাড়ি ওঠার সময় নাইমা যাইস।
পদ্মার ওপারে বাড়ি। মা যখন বেঁচে ছিলো তখন মাসে চার পাঁচবার বাড়ি যেতাম। আরিচা দৌলতদিয়া ঘাট তখন। মা আসার সময় পই পই করে বলতো, বাবা অঞ্জু বাসে ঘুমাইস না। ফেরিতে গাড়ি ওঠার সময় নাইমা যাইস। ফেরি পার হওয়ার পর গাড়ি ফেরি থাকে নামলে গাড়িতে উঠিস। তখন ফোন ছিল না। বুঝতে পারতাম তার উদ্বেগ। তখন অনেক গাড়ির কন্ডাকটর ফেরিতে গাড়ি ওঠানোর আগে যাত্রী নামিয়ে দিত। মাঝে মাঝেই লঞ্চ পারাপারে বাড়ি গেছি। অনেকবার কালবৈশাখীর কবলে পড়েছি। আজকের এই বাস দুর্ঘটনাটাকে আমি শ্রেফ দুর্ঘটনা বলতে নারাজ। বুকের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে। গত একবছর ধরে দেখছি মানুষগুলো সব ক্রেজি হয়ে থাকে। কি রিক্সা চালক, কি পথচারী, কি দোকানী, কি বাস কন্ডাকটর, চালক… আমি সন্তপর্ণে এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করি এদের আচরণ দেখে। মৃত্যু দেখাতে দেখাতে যারা আমাদের স্নায়ুর সংবেদনশীলতাকে নষ্ট করে দিচ্ছেন তারা কি জানেন এর মাশুল তাদেরকেও দিতে হবে নিষ্ঠুরতার মধ্যদিয়ে? স্বাভাবিক মৃত্যুর গেরান্টি ঠিক কার কাছে চাইব? নির্মল সেনের তবু জায়গা ছিল আমার জায়গা কই?
বাবা অঞ্জু বাসে ঘুমাইস না। ফেরিতে গাড়ি ওঠার সময় নাইমা যাইস।






