দিনাজপুরে শুরু হয়েছে ইরি-বোরো ধান কাটার মৌসুম। তবে মৌসুমের শুরুতেই তীব্র শ্রমিক সংকটে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বেশি মজুরি দিয়েও প্রয়োজনীয় শ্রমিক না পাওয়ায় সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না অনেকেই। এতে ফসল ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিকরা দিনাজপুরে এসে ধান কাটার কাজে অংশ নেন। কিন্তু চলতি মৌসুমে স্থানীয় পর্যায়ে শ্রমিকের অভাবের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে তুলনামূলক বেশি মজুরি থাকায় অনেক শ্রমিক সেদিকে চলে গেছেন। এতে জেলায় শ্রমিক সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার মুহাড়াপাড়া গ্রামের কৃষক মো. বেলাল সরদার বলেন, আগে ৫০০ টাকায় শ্রমিক পাওয়া গেলেও এখন ৭০০ টাকার বেশি দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। সময়মতো ধান কাটতে না পারলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক জমির ধান পেকে গেছে এবং প্রায় ১৫ শতাংশ ধান কাটা ও মাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি বিভাগ আশা করছে, এবার জেলায় সাড়ে ৮ লাখ মেট্রিক টনের বেশি চাল উৎপাদন হবে।
তবে শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে কৃষি বিভাগ আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করছে। ভর্তুকির মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলায় হারভেস্টার ও রিপার মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে শ্রমিক সংকট কিছুটা প্রকট হয়েছে। এ কারণে কৃষকদের আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটিই কমবে।
কৃষি বিভাগ জানায়, গত দুই বছরে জেলায় ভর্তুকি মূল্যে প্রায় দেড় হাজার আধুনিক হারভেস্টার মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে। এসব মেশিন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০ একর জমির ধান কাটা ও মাড়াই সম্ভব হচ্ছে। ফলে অনেক কৃষক কম সময়ে ও কম খরচে ধান ঘরে তুলতে পারছেন।
এদিকে শ্রমিকদের মজুরিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে অনেক এলাকায় পুরুষ শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৫০০ থেকে ১২০০ টাকা এবং নারী শ্রমিকের মজুরি ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।
কৃষকদের দাবি, দ্রুত পর্যাপ্ত শ্রমিক সরবরাহ ও কৃষিযন্ত্র সহজলভ্য করা না গেলে ধান কাটায় বিলম্ব হয়ে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়া দেখা দিলে মাঠের পাকা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।






