লেখা: মোকারম হোসেন
বছরে কয়েকবারই বলধা গার্ডেন যাওয়া হয়। হীরকখচিত এই উদ্যানে যতবারই গিয়েছি, খালি হাতে ফিরিনি। এ যেন অফুরন্ত এক উদ্ভিদ ভাণ্ডার। সবশেষে দেখা পেলাম এই লতাচাঁপার। সাইকি বাগানে অফিস ঘরের কোণে অনেক গাছের ভিড়ে গাছটি প্রায় অদৃশ্য। মনযোগ দিয়ে না দেখলে চেনা যায় না। ফুল দেখে তাৎক্ষণিক অন্য দুটি ফুলের কথা মনে পড়লো-একটি কাঁঠালচাঁপা, অন্যটি ক্যানাঙ্গা।
কিন্তু ফুল দুটির সঙ্গে কিছু সাদৃশ্য থাকলেও বৈশাদৃশ্য অনেক। অবশেষে সমস্যার সমাধান করলেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়ামের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সরদার নাসির উদ্দিন। তিনি বললেন, গাছটির উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Desmos chinensis। বলধা গার্ডেন ছাড়া চট্টগ্রামের পাহাড়ে আছে। তবে সংখ্যায় খুবই কম। সে অর্থে ফুলটি দুর্লভও। কোনো কারণে সাইকির এ গাছ বিপন্ন হলে তা হবে অপূরণীয় ক্ষতি। তার আগেই গাছটির চারা-কলম করে সংরক্ষিত কোনো উদ্যানে সংরক্ষণ করা উচিত।
বলধা গার্ডেনে অবশ্য এমন অনেক উদ্ভিদ রয়েছে। আমরা অনেকদিন ধরেই প্রাচীন এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যানের সকল সংগ্রহ চারা-কলমের মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়ে রাখার প্রস্তাব দিয়ে চলেছি। কিন্তু এসব নিয়ে কোনা উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের! আলোচ্য ফুলটির প্রাকৃতিক আবাস দক্ষিণ এশিয়ায়। বৃক্ষপ্রেমী জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ রায় কখন কীভাবে গাছটি এখানে এনেছেন, তা এখন আর জানা যায় না।
লেখক: বিশিষ্ট উদ্ভিদবিদ






