বালিয়াড়ি ভরাট করে সড়ক নির্মাণ, কক্সবাজারে কাজ বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি ভরাট করে সড়ক নির্মাণের কাজ আট সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে সায়মন বিচ পর্যন্ত এলাকায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, উচ্চ আদালতের পূর্বের নির্দেশ অমান্য করে সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। এতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়া সমুদ্রসৈকতের নির্ধারিত এলাকায় নির্মাণকাজ করা আইনত নিষিদ্ধ। বিশেষ করে কক্সবাজার পৌরসভা এলাকার সমুদ্রতীরবর্তী প্রথম ৩০০ মিটার এলাকাকে ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণের ওপর উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।

৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্প

ইতোপূর্বে কক্সবাজার পৌরসভার উদ্যোগে এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে সায়মন বিচ এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ শহর রক্ষা বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

প্রায় ৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে বালিয়াড়ি ভরাট ও সমতল করার অভিযোগ ওঠার পর থেকেই পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।

তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, উপকূলকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা এবং শহরের সুরক্ষার স্বার্থেই প্রয়োজনীয় জরিপ, নকশা ও গবেষণার ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, ইসিএভুক্ত এলাকায় বড় প্রকল্পের জন্য পরিবেশগত ছাড়পত্র আবশ্যক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।

বালিয়াড়ি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)। পরিবেশবিদদের মতে, সৈকতের বালিয়াড়ি জলোচ্ছ্বাস, ঝড় ও উপকূলীয় ভাঙনের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে।

পাশাপাশি বালিয়াড়ি লাল কাঁকড়া, সামুদ্রিক কচ্ছপসহ বিভিন্ন প্রাণীর আবাস ও প্রজননক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এসব এলাকায় অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ হলে উপকূলীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা পরিবেশবিদদের।

বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ বন্ধের দাবিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সসহ বিভিন্ন সংগঠন আইনি পদক্ষেপ ও আন্দোলন শুরু করে।

তাদের অভিযোগ, বালিয়াড়ি নষ্ট করে অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে কক্সবাজারের উপকূলীয় সুরক্ষা দীর্ঘমেয়াদে হুমকির মুখে পড়বে।

হাইকোর্টের আদেশের ফলে আগামী আট সপ্তাহ উক্ত এলাকায় সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে।

স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের দাবি, উন্নয়নের প্রয়োজন থাকলেও সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করেই সব ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

আরও পড়ুন

উটের চোখের পানিতে ২৬ সাপের বিষের প্রতিষেধক, দাবিটি কতটা সত্য?

উটের চোখের পানিতে এমন অ্যান্টিবডি রয়েছে, যা দুই ডজনেরও বেশি প্রজাতির বিষধর সাপের বিষ নিষ্ক্রিয় করতে পারে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবি কৌতূহল...
জাতীয়
0
minutes

ফুটপাতের পিঠা-পুরির দোকানও আসছে নিবন্ধনের আওতায়, কার্যকর ১ নভেম্বর থেকে

সড়কের পাশে পিঠা, পুরি, ঝালমুড়ি ও পেঁয়াজু বিক্রির দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, বেকারি ও খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত শ্রেণির সব খাদ্য ব্যবসাকে নিবন্ধন...
কৃষি, কৃষক ও নিরাপদ খাবার
0
minutes

প্রকৃতির নীরব পরিচ্ছন্নতাকর্মী: কাকেরা কি চলে গেছে, নাকি হারিয়েছি আমরাই?

একসময় ভোরের শহর মানেই ছিল কাকের ডাক। ছাদের কার্নিশে, বৈদ্যুতিক তারে কিংবা বাড়ির পাশের ডাস্টবিনে দেখা মিলত তাদের। গ্রীষ্মের অলস দুপুরেও জানালার বাইরে থেকে...
জাতীয়
0
minutes

শেষ ইচ্ছা ছিল বীজ বাঁচানো, ৬০ প্রজাতির ধানে বেঁচে থাকবেন রামেট্টন

কেরলের আদিবাসী কৃষক চেরুভায়াল রামন নিজের জীবনের বড় একটি অংশ ব্যয় করেছেন হারিয়ে যেতে বসা দেশীয় ধানের বীজ সংরক্ষণে। অর্থনৈতিক কষ্ট, ব্যক্তিগত ত্যাগ কিংবা...
কৃষি, কৃষক ও নিরাপদ খাবার
0
minutes
spot_imgspot_img