জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৩৪ প্রজাতির উভচর ও সরীসৃপের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকেরা। এর মধ্যে রয়েছে ১২ প্রজাতির উভচর ও ২২ প্রজাতির সরীসৃপ। ক্রমবর্ধমান নির্মাণচাপের মধ্যেও ক্যাম্পাসের জলাভূমি, বনাঞ্চল ও কৃষিজমি এসব প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে কাজ করছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
২০২৩ সালের মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ক্যাম্পাসের ১৪টি এলাকায় একাধিকবার মাঠ জরিপ চালিয়ে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জরিপে মোট ৫২২টি উভচর ও ৩১৪টি সরীসৃপ শনাক্ত করা হয়।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ জার্নাল অব জুলজি-তে ‘ডাইভারসিটি অ্যান্ড অ্যাবান্ড্যান্স অব হারপেটোফনা অ্যাট জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস, বাংলাদেশ’ শিরোনামে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আবদুল আজিজের নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়।
প্রথমবারের মতো ক্যাম্পাসের উভচর-সরীসৃপ নিয়ে গবেষণা
অধ্যাপক আজিজের মতে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের উভচর ও সরীসৃপ নিয়ে এটিই প্রথম গবেষণা। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও গবেষণার জন্য এটি প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, উভচরের বৈচিত্র্য সবচেয়ে বেশি কৃষিজমিতে। অন্যদিকে সরীসৃপের বৈচিত্র্য সবচেয়ে বেশি বনাঞ্চলে।
উভচরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে ভারতীয় ষাঁড় ব্যাঙ। জরিপে এই প্রজাতির ১১২টি ব্যাঙের সন্ধান পাওয়া যায়। সরীসৃপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে বেঙ্গল মনিটর বা গোসাপ। এ প্রজাতির ৫১টি দেখা গেছে।
বন্যপ্রাণীর আশ্রয়স্থল জলাভূমি ও বনাঞ্চল
গবেষকদের মতে, ক্যাম্পাসের লেক, অস্থায়ী জলাশয়, কৃষিজমি ও বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ এসব প্রাণীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল। বিশেষ করে উভচরের জন্য অস্থায়ী জলাশয় ও কৃষিজমি এবং সরীসৃপের জন্য বনাঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অধ্যাপক আজিজ বলেন, গবেষণার ফলাফল দেখাচ্ছে, দ্রুত পরিবর্তনশীল নগর পরিবেশের মধ্যেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় উভচর ও সরীসৃপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল। তবে অস্থায়ী জলাশয়, জলাভূমি ও বনাঞ্চলের অংশগুলো দূষণ ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন থেকে রক্ষা করা না গেলে এই বৈচিত্র্য ধরে রাখা সম্ভব হবে না।
কয়েকটি প্রজাতি রয়েছে ঝুঁকিতে
গবেষণায় ইন্ডিয়ান বেলুন ফ্রগকে বাংলাদেশের ২০১৫ সালের লাল তালিকা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বেঙ্গল মনিটর, হলুদ গুইসাপ, গোখরা ও কালাচসহ কয়েকটি সরীসৃপকে প্রায় বিপন্ন অবস্থায় থাকা প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, ক্যাম্পাসে নতুন আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবন নির্মাণ, জলাশয়ে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য ফেলা, সড়কে প্রাণী মারা যাওয়া এবং অস্থায়ী প্রজননক্ষেত্র ভরাটের মতো কারণে এসব প্রাণী ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে পড়ছে।
সংরক্ষণে কয়েকটি সুপারিশ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনায় উভচর ও সরীসৃপ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছেন গবেষকেরা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত জলাভূমি পুনরুদ্ধার, কৃষিজমি থেকে কীটনাশক মিশ্রিত পানির প্রবাহ কমানো, বর্ষাকালে তৈরি হওয়া অস্থায়ী জলাশয় সংরক্ষণ এবং বনাঞ্চলে নির্মাণকাজ সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে গবেষণাটি ২০২৩ সালের মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত মাঠ জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। ফলে ক্যাম্পাসে বর্তমানে উভচর ও সরীসৃপের সংখ্যা বা অবস্থার সঙ্গে এসব তথ্য সরাসরি মেলানো যাবে না।
সূত্র: The Daily Star






