সাপ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানুষ ও সাপের নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফেনীতে ‘সাপ শনাক্তকরণ, বাস্তুতন্ত্র ও নিরাপত্তা সচেতনতা’ বিষয়ক সেমিনার ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোটার্যাক্ট ক্লাব অব ফেনী সরকারি কলেজের উদ্যোগে এবং হিউম্যানিটি ইজ লাইফের সহযোগিতায় ফেনী সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ল্যাবরুমে এ আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের সাপ সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়।
সেমিনারের তাত্ত্বিক পর্বে সাপ শনাক্তকরণ, বাস্তুতন্ত্রে সাপের ভূমিকা, সংরক্ষণ, সাপের কামড় সম্পর্কে সচেতনতা এবং নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ-এর সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম আয়ন।
এ সময় ডব্লিউএসআরটিবিডির সিলেকশন ব্যাচের মোবারক হোসেন এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকারী নাওশীন ইসলাম নিরব ও সামির হোসেন চৌধুরী সহযোগী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সাপ দেখলে কী করবেন
আয়োজনে সাপের মুখোমুখি হলে করণীয়, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং অযথা সাপ ধরার চেষ্টা না করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারীদের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়।
বক্তারা সাপের আচরণ ও শনাক্তকরণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সাপ উদ্ধারের বাস্তব অভিজ্ঞতাও অংশগ্রহণকারীদের সামনে তুলে ধরেন।
সাপ সম্পর্কে প্রচলিত ভয়, ভুল ধারণা ও অজ্ঞতা দূর করে বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক সচেতনতা তৈরি করাই ছিল আয়োজনটির অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে তরুণদের মধ্যে সাপ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা এবং সংরক্ষণচেতনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, সাপ প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খল ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই অযথা ভয় বা হত্যা না করে সাপ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।
উপস্থিত ছিলেন যারা
অনুষ্ঠানে রোটারি ক্লাব অব ফেনী অপর্বের সভাপতি রোটারিয়ান কামরুল হাসান, রোটার্যাক্ট ক্লাব অব ফেনী সরকারি কলেজের সভাপতি রোটার্যাক্টর নুরুল আমিন সজীব ও সাধারণ সম্পাদক রোটার্যাক্টর তাহসিন শাহরিয়ার আদরসহ ক্লাবের সদস্য এবং ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজনটির ক্লাব পার্টনার ছিল হিউম্যানিটি ইজ লাইফ। সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ইবনে হাসান হাসপাতাল, ফেনী।
ডব্লিউএসআরটিবিডি জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও সাপ ও বন্যপ্রাণী বিষয়ে জ্ঞান, সচেতনতা, নিরাপত্তা এবং সংরক্ষণমূলক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।






