চুয়াডাঙ্গায় অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা একটি গন্ধগোকুলের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসার জন্য প্রাণীটিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নেওয়া হলেও বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সদস্যরা সেখানে পৌঁছানোর আগেই সেটি মারা যায়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন নুর মোহাম্মদ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীদের বিষয়টি জানান।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন যুবক অসুস্থ গন্ধগোকুলটিকে চিকিৎসার জন্য প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। তাঁদের একজন সাইফুল ইসলাম জানান, তাঁদের কার্যালয়ের একটি আমগাছের নিচে প্রাণীটিকে ডাকাডাকি করতে শোনা যায়। পরে সেখানে গিয়ে তাঁরা প্রাণীটিকে নড়াচড়া করতে না দেখে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন।
তবে সংগঠনটির সদস্যরা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে পৌঁছানোর আগেই গন্ধগোকুলটির মৃত্যু হয়।
গন্ধগোকুলটি এশীয় তালখাটাশ বা এশীয় পাম সিভেট (Paradoxurus hermaphroditus) প্রজাতির প্রাণী। এটি ফল খেতে পছন্দ করে এবং বীজ ছড়িয়ে বনের প্রাকৃতিক পুনর্জন্মে ভূমিকা রাখে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রাণীটির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তালের রস খাওয়ার প্রবণতার কারণে অনেক এলাকায় প্রাণীটি তালখাটাশ নামেও পরিচিত।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীদের মতে, আবাসস্থল সংকোচন ও মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের কারণে বন্যপ্রাণী ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। গন্ধগোকুলের মতো প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী, গন্ধগোকুল সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী। তাই প্রাণীটিকে হত্যা, ধরা বা পাচার না করে বিপদে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন।
গন্ধগোকুলটির মৃত্যুর পর বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সদস্যরা প্রাণীটি উদ্ধারের স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় সাইফুল ইসলামের সঙ্গে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা হয় এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। পরে প্রাণীটিকে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পেছনে সৎকার করা হয়।
এ সময় নাহিদ ইসলাম, দোলন মিয়াসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: Shiplu Ahsan Habib এর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে সংগৃহীত






