প্রকৃতির সান্নিধ্যে শিশুদের বই পড়ার পাশাপাশি তাদের ভেতরের সুপ্ত সম্ভাবনা ও সৃজনশীলতাকে বিকশিত করতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে পিটাছড়া পাঠাগার। এরই ধারাবাহিকতায় গত দুই দিন পাঠাগার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিশুদের নাটক ও গানের কর্মশালা। স্থানীয় তিনটি স্কুলের শিক্ষার্থী এবং পাঠাগারের সদস্যসহ প্রায় ৬০ জন শিশুর প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
দুই দিনের কর্মশালায় শিশুদের নিয়ে নাটকের অনুশীলনের পাশাপাশি চলে গান শেখা ও রিহার্সাল। প্রচলিত আয়োজনের মতো কোনো বাঁধাধরা স্ক্রিপ্ট বা কৃত্রিম পরিবেশের বদলে শিশুদের নিজেদের ভাবনা, অনুভূতি ও সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। নাটকের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রপসও তারা নিজেরাই তৈরি করে নেয়। Sumadh Barua-এর দিকনির্দেশনায় মুখস্থ সংলাপের পরিবর্তে নিজেদের অনুভূতি ও কল্পনা থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অভিনয়ে অংশ নেয় শিশুরা।

একই সময়ে পাঠাগারের সুরের আঙিনায় গানের দলের সদস্যদের নিয়ে চলে দুই দিনের নিরলস রেওয়াজ ও রিহার্সাল। এ আয়োজনে শিশুদের সঙ্গে ছিলেন পাঠাগারের প্রিয় মানুষ Musa Kalim Mukul ভাই। পাহাড়ের নীরব পরিবেশে শিশুদের কণ্ঠের গান ও সুর যেন পুরো আয়োজনকে ভিন্ন এক আবহ এনে দেয়।
আয়োজকদের ভাষ্য, এই দুই দিনে প্রায় ৬০ জন শিশুর চোখে-মুখে যে আত্মবিশ্বাস, আনন্দ ও সৃজনশীলতার প্রকাশ দেখা গেছে, সেটিই পিটাছড়া পাঠাগারের মূল অনুপ্রেরণা। প্রকৃতির মুক্ত পরিবেশে মুক্ত মনে বেড়ে ওঠা শিশুরাই একদিন নতুন ও সুন্দর সমাজ নির্মাণে ভূমিকা রাখবে—এমন বিশ্বাস থেকেই শিশুদের নিয়ে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখতে চায় পাঠাগার কর্তৃপক্ষ।
পিটাছড়া পাঠাগারের কার্যক্রমের পেছনে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন একদল নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। Kanchan Mala Tripura দি, ধীরতি দি, প্রিয় মনি এবং পাঠাগারের অন্যান্য সদস্যদের নিরলস শ্রম ও সহযোগিতায় শিশুদের জন্য এ ধরনের আয়োজন সম্ভব হচ্ছে।
পিটাছড়া পাঠাগার কর্তৃপক্ষ মনে করে, শিশুদের হাতে শুধু বই তুলে দেওয়া নয়, তাদের কল্পনা, সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ তৈরি করাও জরুরি। আর সেই লক্ষ্যেই পাহাড়ের প্রকৃতির মাঝে পাঠাগারটি হয়ে উঠতে চায় শিশুদের মুক্ত চিন্তা ও নতুন সুন্দর সৃষ্টির একটি উন্মুক্ত ক্ষেত্র।






