জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। বন্যা, অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, অতিরিক্ত তাপমাত্রাসহ নানা দুর্যোগের ঝুঁকি দীর্ঘদিন ধরেই মোকাবিলা করে আসছে দেশটি। এবার বিশ্বের বড় শহরগুলোর জলবায়ু ঝুঁকি এবং সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতার ভিত্তিতে তৈরি এক তালিকায় উঠে এসেছে ঢাকার উদ্বেগজনক অবস্থান।
ভূস্থানভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান আলফাজিও বিশ্বের ৭২টি বড় শহরের জলবায়ু-সহনশীলতার একটি তালিকা তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, এসব শহরের অনেকগুলোর ক্ষেত্রেই ‘ঝুঁকির মাত্রা এবং তা মোকাবিলার সক্ষমতার মধ্যে বিপজ্জনক ব্যবধান’ রয়েছে।
আলফাজিওর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী পারাগ খান্না বলেন, ‘জলবায়ু–সহনশীলতা হলো ঝুঁকি বাদ দিয়ে অভিযোজনের সক্ষমতা।’ তিনি বলেন, সবাই সহনশীলতার কথা বলে, কিন্তু কেউ তা পরিমাপ করে না।
ঝুঁকি ও প্রস্তুতি, দুই সূচকে মূল্যায়ন
আলফাজিওর হিসাবে কোনো শহর কতটা জলবায়ু-সহনশীল, তা নির্ধারণে দুটি বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। প্রথমত, জলবায়ুজনিত বিভিন্ন ঝুঁকির সরাসরি প্রভাব শহরটির ওপর কতটা পড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ বন্যা, উপকূলীয় বন্যা, অতিরিক্ত গরম, খরা, দাবানল ও ঘূর্ণিঝড়ের বাতাস।
দ্বিতীয়ত, এসব ঝুঁকির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শহরটি কতটা প্রস্তুত, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
শহরগুলোর অভিযোজন সক্ষমতা যাচাইয়ে আগাম সতর্কবার্তার ব্যবস্থা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, নীতিগত পদক্ষেপ, বন্যা প্রতিরোধী বাঁধ এবং পানি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার মতো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নিষ্কাশনব্যবস্থার মতো অবকাঠামো বিবেচনা করা হয়েছে।
এ ধরনের প্রস্তুতি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডার চাপে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও শক্তিশালী বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি কিংবা বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্নতার মতো পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব।
শীর্ষে শিকাগো, নিচের সারিতে দক্ষিণ এশিয়ার শহর
জলবায়ু-সহনশীল শহরের তালিকায় প্রথম হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো। নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে অবস্থিত শহরটিতে মিঠা পানির পর্যাপ্ত রিজার্ভ রয়েছে এবং ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিও তুলনামূলক কম। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় শহরটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করছে।

এর মধ্যে রয়েছে বিশাল ‘ডিপ টানেল প্রজেক্ট’, যার লক্ষ্য বন্যা ও পানিদূষণ কমানো।
অন্যদিকে, সবচেয়ে কম জলবায়ু-সহনশীল শহরগুলোর অনেকগুলোই দক্ষিণ এশিয়ায়। এসব শহরে বন্যা ও মৌসুমি বৃষ্টির ঝুঁকি বেশি হলেও সে তুলনায় ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি কম।
তালিকায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা শহর ভারতের আহমেদাবাদ। নদীর তীরে অবস্থিত শহরটির পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের হায়দরাবাদ। তৃতীয় পাকিস্তানের মুলতান। আর চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।
তালিকায় বাংলাদেশের আরেক বড় শহর চট্টগ্রামের অবস্থান নবম।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত যত বাড়ছে, শুধু দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোই নয়, দুর্যোগের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি হয়ে উঠছে। ঢাকার অবস্থান সেই বাস্তবতাকেই নতুন করে সামনে এনেছে।
সূত্র: আলফাজিও, নিউইয়র্ক টাইমস ও কিশোর আলো






