প্রবল স্রোতের সঙ্গে যুঝে তখন বাঁচার মরিয়া চেষ্টা করছে একটি ছোট্ট হস্তীশাবক। জলের তোড়ে ক্রমশ দূরে ভেসে যাচ্ছে সে। আর পাঁচটা দিনের মতোই নদীতে মাছ ধরছিলেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। হঠাৎ তাঁদের নজরে আসে এই মর্মান্তিক দৃশ্য।
বিপদ বুঝে আর এক মুহূর্তও দেরি করেননি তাঁরা। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তড়িঘড়ি নৌকা ছুটিয়ে উত্তাল স্রোতের মধ্যেই শাবকটির দিকে ধাওয়া করেন মৎস্যজীবীরা।
ঘটনাটি মালবাজার মহকুমার তিস্তা নদীর ১২ নম্বর স্পার এলাকার। উত্তাল নদীর বুকে প্রায় তিন কিলোমিটার নদীপথ নৌকা নিয়ে ধাওয়া করার পর অবশেষে হস্তীশাবকটির নাগাল পান মৎস্যজীবীরা। প্রবল স্রোতের বুক থেকে সাবধানে শাবকটিকে নৌকায় তুলে নিরাপদে নদীর পাড়ে নিয়ে আসেন তাঁরা।
পাড়ে পৌঁছানোর পরই খবর দেওয়া হয় বন দফতরকে। উদ্ধার হওয়া হস্তীশাবকটিকে তুলে দেওয়া হয় কাঠামবাড়ি রেঞ্জের বনকর্মীদের হাতে। বন দফতরের আধিকারিকেরা প্রথমেই শাবকটির শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখেন। পাশাপাশি সেটি দলছুট হয়ে কীভাবে তিস্তায় এসে পড়ল এবং তার মা ও পালের অবস্থান কোথায়, তা জানতে শুরু হয় নজরদারি।
অবশেষে বনকর্মীদের তৎপরতায় হাতির পালের খোঁজ মেলে। এরপর হস্তীশাবকটিকে সফলভাবে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
মৎস্যজীবীদের এই অসীম সাহসিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ উত্তরবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরাম। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রবল স্রোতের মধ্যে নিজেদের জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়েই নদীতে নেমেছিলেন ওই মৎস্যজীবীরা। তাঁদের অকুতোভয় ও মানবিক উদ্যোগের ফলেই তিস্তার বুক থেকে একটি অবোলা প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।
মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে মায়ের কোলে শাবকটির নিশ্চিন্ত আশ্রয়ের এই ঘটনায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবেশপ্রেমীদের মধ্যেও। অবোলা প্রাণ বাঁচাতে মৎস্যজীবীদের সাহসিকতা এবং বন দফতরের তৎপরতার এই সমন্বয় প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সূত্র: আনন্দবাজার






