আজ ২২ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব গণ্ডার দিবস। বিশ্বের বিপন্ন বন্যপ্রাণীদের অন্যতম গণ্ডার সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং এদের অস্তিত্ব রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়।
বিশ্বে বর্তমানে পাঁচ প্রজাতির গণ্ডার টিকে রয়েছে। এশিয়ায় রয়েছে একশৃঙ্গী, জাভান ও সুমাত্রান গণ্ডার। আর আফ্রিকায় রয়েছে সাদা ও কালো গণ্ডার। পরিবেশ ও বন বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস এবং আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের কারণে এই বন্যপ্রাণীটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
বিশেষ করে গণ্ডারের শিং ঘিরে প্রচলিত নানা ভ্রান্ত বিশ্বাস ও উচ্চমূল্যের বাজারের কারণে প্রাণীটি চোরাশিকারের বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসায় গণ্ডারের শিংয়ের কথিত ঔষধি গুণ রয়েছে, এমন বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন বিশ্বাসও এর চাহিদা বাড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থার (আইইউসিএন) লাল তালিকা অনুযায়ী, জাভান ও সুমাত্রান গণ্ডার চরম বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে। ফলে এই দুই প্রজাতির টিকে থাকা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত একশৃঙ্গী গণ্ডার
একসময় অবিভক্ত বাংলার সমতল বন ও জলাভূমিতে প্রচুর একশৃঙ্গী গণ্ডারের বিচরণ ছিল। তবে বিংশ শতাব্দীর শুরুতেই বাংলাদেশ থেকে এই প্রাণীটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়।
তবে প্রতিবেশী ভারত ও নেপালে কঠোর সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও নজরদারির ফলে গত কয়েক দশকে একশৃঙ্গী গণ্ডারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারতের আসামের কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান ও পশ্চিমবঙ্গের জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান বর্তমানে একশৃঙ্গী গণ্ডারের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল।
যেভাবে শুরু বিশ্ব গণ্ডার দিবস
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্ব বন্যপ্রাণী তহবিলের (ডব্লিউডব্লিউএফ) উদ্যোগে প্রথম বিশ্ব গণ্ডার দিবস পালনের সূচনা হয়। পরের বছর, ২০১১ সাল থেকে দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হতে শুরু করে।
দিবসটি উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা সচেতনতামূলক কর্মসূচি, আলোচনা ও সেমিনারের আয়োজন করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষা ও বনভূমি টিকিয়ে রাখতে গণ্ডার সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চোরাশিকার বন্ধ, অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ এবং গণ্ডারের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।






