আবাসস্থল ও চলাচলের পথ (করিডোর) সংকুচিত হওয়া, সড়ক নির্মাণ, হত্যা, পাচার ও শিকারের কারণে গত ৯ বছরে দেশে ১৪৬টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। বিপন্ন এই প্রাণীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাওয়ায় দেশে হাতির অস্তিত্বও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
২০১৬ সালে দেশে হাতির আনুমানিক সংখ্যা ছিল ২৬৮টি। এরপর নানা কারণে একের পর এক হাতির মৃত্যু হওয়ায় বর্তমানে এ প্রাণীর সংখ্যা আরও কমেছে।
মানুষের বসতি ও চাষাবাদের বিস্তৃতি এবং বনে খাবারের সংকটের কারণে হাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘাতও বাড়ছে। খাবারের সন্ধানে বনের হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে ফসল ও বাগান। হাতি তাড়াতে গিয়ে অনেক সময় আহত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়দের কেউ কেউ হাতিকে গুলি করছেন বা বিষ প্রয়োগ করছেন। এতে প্রাণ হারাচ্ছে অসংখ্য হাতি। পাশাপাশি রেললাইনে কাটা পড়ে, বৈদ্যুতিক ফাঁদে আটকে এবং জলবায়ুর প্রভাবেও হাতির মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাতির চলাচলের পথ ও আবাসস্থল রক্ষা করা না গেলে এ প্রাণীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে মানুষ ও হাতির সংঘাত কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
তাদের মতে, হাতির নিরাপদ চলাচলের করিডোর নিশ্চিত করা, আবাসস্থল সুরক্ষিত রাখা এবং হাতি-মানুষ সংঘাতপ্রবণ এলাকায় কার্যকর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা না গেলে দেশে হাতির সংখ্যা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।






