সাধারণত কৃষিজমির মাঝখানে একসঙ্গে অনেক হাতিকে শুয়ে বিশ্রাম নিতে দেখা যায় না। তবে ভারতের আসাম রাজ্যের সবুজ ধানখেতের মাঝে কাদামাটির একটি জায়গায় এশীয় হাতির বিশাল একটি পালের নিশ্চিন্তে শুয়ে থাকার দৃশ্য ব্যতিক্রমী হয়ে উঠেছে। আকাশ থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, বড় হাতিগুলোর পাশাপাশি রয়েছে ছোট ছোট শাবকও। কোনো কোনো হাতি আবার একেবারে কাত হয়ে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে।
সাহিল ফটোগ্রাফির তোলা ছবিগুলোতে ধানখেতের উজ্জ্বল সবুজের মাঝে হাতির পালটির এমন দৃশ্য ফুটে উঠেছে। সাধারণত হাতিরা দাঁড়িয়ে কিংবা চলাফেরা করার সময় বেশি নজরে আসে। কিন্তু এভাবে দলবদ্ধ হয়ে শুয়ে থাকার দৃশ্য তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের অন্য একটি দিক তুলে ধরেছে।
হাতিদের এমন দলবদ্ধ বিশ্রাম তাদের পারস্পরিক আস্থা ও নিরাপত্তাবোধের ইঙ্গিত দিতে পারে। পরিবেশ নিরাপদ মনে হলে হাতিরা বিশ্রামের সময় তুলনামূলকভাবে নিশ্চিন্ত থাকতে পারে। বিশেষ করে পালের ছোট শাবকদের নিরাপত্তার জন্য দলবদ্ধভাবে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। বড় হাতিদের সঙ্গে শাবকদেরও এভাবে শুয়ে থাকতে দেখা যাওয়ায় দৃশ্যটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
এশীয় হাতিরা সাধারণত ঘনিষ্ঠ পারিবারিক দলে চলাফেরা করে। এসব দলের নেতৃত্বে প্রায়ই থাকে অভিজ্ঞ বয়স্ক নারী হাতি, যাকে মাতৃনেত্রী বলা হয়। তার অভিজ্ঞতা পালের চলাচল, খাদ্য ও পানির সন্ধান এবং নিরাপদ আশ্রয় বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে হাতির পালের বিশ্রাম নেওয়ার স্থান ও আচরণ তাদের সামাজিক জীবন সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে।
এই দৃশ্যের সঙ্গে ভারতের বন্য এশীয় হাতির আবাসস্থলের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের অবশিষ্ট বন্য এশীয় হাতির বড় একটি অংশের আবাসস্থল ভারত। ডিএনএভিত্তিক গণনা অনুযায়ী, দেশটিতে হাতির সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার ৪৪৬টি। এর মধ্যে আসাম রাজ্যেই রয়েছে আনুমানিক ৪ হাজার ১৫৯টি হাতি।
সবুজ ধানখেতের বুকে হাতির একটি পুরো পালের এমন নিশ্চিন্ত বিশ্রামের দৃশ্য শুধু দৃষ্টিনন্দন নয়, বন্য প্রাণীদের জীবনযাপন সম্পর্কেও ভাবায়। হাতির মতো বৃহৎ প্রাণীর অস্তিত্ব রক্ষায় বনভূমি, নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের কৃষিজমি ও বসতির বিস্তারের মধ্যেও হাতিদের নিরাপদে চলাচল ও বেঁচে থাকার সুযোগ নিশ্চিত করা তাই বড় চ্যালেঞ্জ।






