চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দীনসহ বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জের কোদালা বিটে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোদালা বিটের ‘এভিয়ারি অ্যান্ড ইকোপার্ক রাঙ্গুনিয়া’র পার্কিং সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে নির্মিত দুটি ঘর ও ঘেরা-বেড়া উচ্ছেদ করে বন বিভাগের প্রতিনিধিদল। পরে ইকোপার্কের পিকনিক স্পট দখল করে নির্মিত আরেকটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে দখলদাররা বাধা দেন। এ পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে অভিযান স্থগিত রাখা হয়।
পরে ঘটনাস্থলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপস্থিত হলে রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দীন তাঁর সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় আহমুদুল হক (আহমেদ), মাহবুব, মো. ফারুক, মো. হোসেন, আনোয়ার ও বাবুলের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বন বিভাগের কর্মীদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে হামলা চালিয়ে বন রক্ষার কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না। সরকারি বনভূমি রক্ষা ও অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দীন বলেন, ‘আজ কোদালা বিটে সরকারি বনভূমি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে চিহ্নিত দখলদারীদের নেতৃত্বে ২০০-২৫০ জনের সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছি। আমরা তিনটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৫ একর বনভূমি মুক্ত করেছি।’
তিনি আরও বলেন, এই হামলা তাঁর ওপর নয়, রাষ্ট্রের সম্পদের ওপর। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বনভূমি রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মেহরাজ উদ্দীন আরও বলেন, ‘আমি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছি। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন






