বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ হুইটলি অ্যাওয়ার্ড বা ‘গ্রিন অস্কার’ জিতেছেন ভারতের দুই নারী- পারভীন শেখ ও বরখা সুব্বা। চলতি বছরে বিশ্বের ছয়জন এই সম্মানজনক পুরস্কার পেয়েছেন, যার মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন এই দুই ভারতীয় নারী।
বিরল প্রজাতির পাখি ও বিলুপ্তপ্রায় উভচর প্রাণী সংরক্ষণে তাঁদের দীর্ঘদিনের কাজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে তাঁরা প্রমাণ করেছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ থাকলে বিপন্ন প্রাণীদের রক্ষা করা সম্ভব।
পারভীন শেখ মূলত বিপন্ন ইন্ডিয়ান স্কিমার পাখি সংরক্ষণে কাজ করছেন। বম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি চম্বল নদীতে ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য স্কিমার’ নামে একটি উদ্যোগ শুরু করেন। এই প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘বাসার প্রহরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়। তারা বালি উত্তোলন ও গবাদিপশুর আক্রমণ থেকে পাখির বাসা রক্ষা করেন।
পারভীনের প্রচেষ্টায় ২০১৭ সালে যেখানে এই পাখির সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০০, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় এক হাজারে পৌঁছেছে। তিনি জানিয়েছেন, পুরস্কারের অর্থ ব্যবহার করে গঙ্গা ও যমুনা নদীর মিলনস্থল প্রয়াগরাজে আরও বড় পরিসরে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে চান। পাশাপাশি জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে পাখির বাসা পর্যবেক্ষণ এবং সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদারের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
অন্যদিকে দার্জিলিংয়ের বরখা সুব্বা কাজ করছেন বিরল হিমালয়ান স্যালামাণ্ডার সংরক্ষণে। হিমালয়ের জলাভূমিতে বসবাসকারী এই উভচর প্রাণী বর্তমানে দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।
‘সারভাইভার অব আ লস্ট ওয়ার্ল্ড’ প্রকল্পের মাধ্যমে বরখা স্থানীয় চা-বাগানের শ্রমিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে এই সংরক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত করেছেন। জলাভূমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে তিনি স্যালামাণ্ডারের প্রজননের উপযোগী পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
বরখার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো পূর্ব হিমালয়জুড়ে একটি সুরক্ষিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, যাতে এই ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ হিসেবে পরিচিত প্রাণী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকে থাকে।
দুই ভারতীয় নারীর এই অর্জন এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিবেশ সংরক্ষণ আন্দোলনের এক অনুপ্রেরণাদায়ী উদাহরণ হয়ে উঠেছে।






