রবি কস্টা, হবিগঞ্জ
রাত তখন প্রায় ৩টা। হঠাৎ ফোনে আসে একটি জরুরি কল। অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, একটি বাড়ির বেডরুমে গর্তের ভেতর থেকে সাপের ফোঁসফোঁস শব্দ শোনা যাচ্ছে। খবর পেয়ে হবিগঞ্জ বন বিভাগকে বিষয়টি জানিয়ে সকালে ঘটনাস্থলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মী।
পরদিন বন বিভাগের সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পালঙ্কের নিচে একটি ছোট গর্ত। গর্তের মুখ ছোট হলেও ভেতরটা ছিল বেশ বড়। সতর্কতার সঙ্গে গর্তটি খুঁড়ে দেখা যায়, সেখানে একটি মা সাপ কয়েকটি ডিম নিয়ে অবস্থান করছে। ডিমগুলো পাহারা দিচ্ছিল সাপটি।
উদ্ধারকর্মী জানান, অনেক পরিশ্রমের পর মা সাপটিকে গর্ত থেকে নিরাপদে বের করে আনা হয়। পরে দেখা যায়, সাপটির সঙ্গে বেশ কয়েকটি ডিম রয়েছে। ডিমগুলোর ভেতরে নতুন প্রাণের বিকাশও শুরু হয়েছে।
প্রথমে সাপটিকে অবমুক্ত করে দেওয়ার কথা ভাবা হলেও ডিমগুলোর কথা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। মা সাপ ও ডিমগুলো আপাতত নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে। মা সাপের জন্য আলাদা পাত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর ডিমগুলো রাখা হয়েছে ঠান্ডা মাটির ওপর একটি ঝুড়িতে। যাতে ডিমগুলো পর্যবেক্ষণ করা যায়, সেভাবেই সেগুলো রাখা হয়েছে। পরে কলাপাতা দিয়ে ডিমগুলো ঢেকে অন্ধকার ও নিরাপদ স্থানে রাখা হয়।
উদ্ধারকারীর ভাষায়, এখন অপেক্ষার পালা, কবে ডিম ফুটে পৃথিবীতে আসবে নতুন প্রাণগুলো। প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খল ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একসময় তারাও ভূমিকা রাখবে।

মা সাপটির খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তাকে তিনটি জীবন্ত লাঠি মাছ দেওয়া হলে সাপটি দুটি খেয়ে ফেলে এবং একটি রেখে দেওয়া হয়।
বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারীদের মতে, মানুষের বসতবাড়িতে সাপ ঢুকে পড়লে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে হত্যা না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ বা প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারীদের খবর দেওয়া উচিত। বিশেষ করে ডিমসহ কোনো মা সাপ পাওয়া গেলে সেটিকে অযথা বিরক্ত না করে নিরাপদে উদ্ধারের ব্যবস্থা করা জরুরি।
এখন মা সাপ ও তার ডিমগুলোকে নিরাপদে রাখার পরবর্তী লক্ষ্য একটাই, ডিমগুলো থেকে নতুন প্রাণের জন্ম দেওয়া এবং উপযুক্ত সময়ে মা সাপ ও ছানাগুলোকে প্রকৃতির নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা।
কারণ, প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণীরই রয়েছে নিজস্ব ভূমিকা। এই ডিমগুলো থেকে জন্ম নেওয়া ছোট ছোট প্রাণও একদিন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার সেই চক্রের অংশ হয়ে উঠবে।






