নেপালের ভয়াবহ বন্যার পানিতে ভেসে ভারতের উত্তর প্রদেশে এসে পড়া কয়েকটি হাতির জীবন বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা ধরা পড়েছে একটি ভাইরাল ভিডিওতে। প্রবল স্রোতের মধ্যে টিকে থাকার জন্য হাতিগুলোর সংগ্রামের দৃশ্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, বন্যার তীব্র স্রোত হাতিগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রাণীগুলো স্রোতের বিপরীতে নিজেদের ভারসাম্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে। বেঁচে থাকার তীব্র চেষ্টায় তারা বারবার শুঁড় পানির ওপরে তুলে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করছে।
বন্যার পানির স্রোত এতটাই প্রবল ছিল যে হাতিগুলোর স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো কোনো সময় তাদের শরীর প্রায় পুরোপুরি পানির নিচে চলে যেতে দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে শুঁড়টিকে পানির ওপরে রাখা তাদের জন্য শ্বাস নেওয়ার প্রধান উপায় হয়ে ওঠে।
নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আকস্মিক পানির স্রোতে মানুষ ও বন্যপ্রাণী—দুই পক্ষই বিপদের মুখে পড়েছে। নিজেদের স্বাভাবিক আবাসস্থল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অনেক বন্যপ্রাণী নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পানির স্রোতে ভেসে যাচ্ছে।
হাতির মতো বড় প্রাণীও আকস্মিক বন্যার ক্ষেত্রে ঝুঁকির বাইরে নয়। পানির গভীরতা, স্রোতের গতি এবং দীর্ঘ সময় খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব তাদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে আটকে পড়া হাতিগুলোকে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রাণীগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের দুর্যোগে বন্যপ্রাণীদের নিরাপদে উদ্ধারের পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক চলাচলের পথ ও আবাসস্থল সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আকস্মিক বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়লে বন্যপ্রাণীদের ওপরও এর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে।






