একটা সময় ছিল; সকাল হলেই জানালার পাশে ভেসে আসত চড়ুইয়ের কিচিরমিচির। বারান্দা, কার্নিশ কিংবা ছাদের কোণে ছোট্ট বাসা বানিয়ে এই পাখিগুলো যেন আমাদের দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ হয়ে ছিল।
এখন সেই পরিচিত ডাক অনেকটাই কমে গেছে। শহর বড় হয়েছে, বেড়েছে কংক্রিটের বিস্তার। কমেছে গাছপালা, খোলা জায়গা ও পাখির নিরাপদ আশ্রয়। আর এর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চারপাশ থেকেও ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে চড়ুই।
চড়ুইয়ের সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ নিয়ে বিজ্ঞানীরা আলোচনা করেছেন। বাসা বানানোর জায়গা কমে যাওয়া, খাবারের সংকট, কীটনাশকের ব্যবহার ও পরিবেশদূষণ, এসব কারণ পাখিটির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে মোবাইল ফোনের টাওয়ারকে চড়ুই কমে যাওয়ার একমাত্র কারণ হিসেবে দায়ী করার দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
তবু প্রশ্নটা থেকেই যায়
আমরা কি এমন একটি পৃথিবী রেখে যাব, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম চড়ুইকে শুধু ছবিতেই দেখবে?
চড়ুই রক্ষায় বড় কোনো উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকেও আমরা ছোট ছোট কিছু কাজ করতে পারি। বাড়ির আশপাশে চড়ুই এলে তাদের জন্য একটি পাত্রে পরিষ্কার পানি রাখা যায়। কিছু দানা দেওয়া যায়। সম্ভব হলে বারান্দা বা নিরাপদ কোনো স্থানে ছোট্ট বাসা তৈরির সুযোগও রাখা যায়।
কারণ প্রকৃতির ছোট্ট এই বাসিন্দাদের টিকে থাকার জন্য আমাদের সামান্য সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
আজ আপনার বাড়ির আশপাশে যদি কোনো চড়ুই আসে, তাকে একটু জায়গা দিন।
হয়তো আপনার রাখা এক বাটি পানি কিংবা ছোট্ট একটি বাসাই কোনো চড়ুই পরিবারের নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠবে।






